রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, টার্মিনালগুলোতে বাড়ছে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, টার্মিনালগুলোতে বাড়ছে ভিড়
গাবতলী, সায়েদাবাদ ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে ভিড় বাড়ছে। ছবি: কোলাজ

ঈদুল আজহার টানা ছুটির শেষ বিকেল আজ। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে রাজধানীমুখী হয়েছেন হাজারো মানুষ। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যাত্রীদের ভিড়। হাতে ব্যাগ, কাঁধে দায়িত্ব আর চোখেমুখে ছুটির স্মৃতি নিয়ে কর্মজীবীরা ছুটছেন ঢাকার পথে। কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষা, কোথাও বাসে ওঠার তাড়াহুড়া, আবার কোথাও স্বজনদের বিদায়ের আবেগঘন দৃশ্য। ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরার এই স্রোতে বিকেল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে প্রধান বাস টার্মিনালগুলো।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই রাজধানীমুখী যাত্রায় নেমেছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের কারণে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে ছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা। তবে এবার ফিরতি যাত্রা তুলনামূলকভাবে শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। কোথাও অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ যানজট বা বড় ধরনের ভোগান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।


বিজ্ঞাপন


ঢাকার প্রধান প্রবেশপথগুলোতেও যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও কল্যাণপুর এলাকায় বাস থেকে নেমে যাত্রীরা সহজেই রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা বিশৃঙ্খলার উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

2

গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলো একের পর এক প্রবেশ করে যাত্রী নামিয়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে ফেরা আব্দুল গাফ্ফার বলেন, এবার যাত্রা আগের তুলনায় অনেক সহজ ছিল। পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরতে পেরেছি। বাস সময়মতো পেয়েছি, পথেও তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। তাঁর মতো অনেক যাত্রীই জানিয়েছেন, ঈদের পর ঢাকায় ফেরা এবার তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ছিল।

গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় বগুড়া, পাবনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও একসঙ্গে চাপ তৈরি হয়নি। কাউন্টারগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা যায়নি। যাত্রীরা বলছেন, বাসে ওঠা থেকে শুরু করে ঢাকায় নামা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ছিল স্বাভাবিক ও ঝামেলামুক্ত। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদযাত্রা কয়েক ধাপে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে চাপ তৈরি হয়নি, যার প্রভাব পড়েছে ফিরতি যাত্রাতেও।


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও সকাল থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী বাস নিয়মিত প্রবেশ করেছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও নোয়াখালী থেকে আসা যাত্রীরা নেমে দ্রুত নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন। সায়েদাবাদে নামা এক যাত্রী বলেন, সাধারণত ঈদের পরে এখানে অনেক ভিড় থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি ছিল শান্ত। কোনো ধরনের ধাক্কাধাক্কি বা দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়নি।

কুমিল্লা থেকে ফেরা আরেক যাত্রী কামাল উদ্দিন জানান, বাসে বসার জায়গা পেয়েছি, সময়মতো পৌঁছেছি। ঢাকায় নেমেও সহজে গাড়ি পাওয়া গেছে। পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, যাত্রীচাপ সময়ভাগে ছড়িয়ে পড়ায় কোনো নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি।

কল্যাণপুর বাস টার্মিনালেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বাসগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। রংপুর ও দিনাজপুর থেকে আসা যাত্রী শফিক বলেন, রাস্তায় যানজট ছিল না। পরিবার নিয়ে খুব সহজেই ঢাকায় ফিরতে পেরেছি। কল্যাণপুরে নেমে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার যানবাহনও পাওয়া গেছে।

1

একই টার্মিনালে তারেক রহমান নামের আরেক যাত্রী বলেন, ঈদের পর সাধারণত যে ধরনের ভিড় দেখা যায়, এবার তা নেই। পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাও ভালো ছিল বলে মনে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফিরতি যাত্রায় যাত্রীদের চাপ আগের মতো একসঙ্গে না এসে বিভিন্ন সময়ে ভাগ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়েছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। যাত্রীদের চাপ কয়েকটি ধাপে ভাগ হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে বড় ধরনের ভিড় তৈরি হয়নি। ফলে টার্মিনালগুলোতে স্বস্তির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় আগামীকাল সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খুলবে। ফলে দিনের শেষ ভাগে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর