সরকারি ছুটির শেষ দিনেও রাজধানীর সড়কে ফেরেনি চিরচেনা ব্যস্ততা। ফাঁকা সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও গণপরিবহনে যাত্রী কম। বাস থামিয়ে হাঁকডাক করেও যাত্রী পাচ্ছেন না চালকের সহকারীরা। আর প্রখর গরমে অনেকেই ঝুঁকছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর আসাদগেট, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, হাতিরঝিল এবং রামপুরা বাড্ডা সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকে এসব এলাকার মূল সড়কগুলো ছিল ফাঁকা। যানবাহন চললেও সংখ্যায় অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। যেসব বাস চলাচল করছে সেগুলোতেও যাত্রী হাতেগোনা। বাস থামিয়ে চালকের সহকারীরা হাঁকডাক করলেও মিলছে না যাত্রী। রোদের কারণে অনেকে চলাচলের জন্য সিএনজি অটোরিকশা বেছে নেওয়ায় বাসে যাত্রী খরা আরও বেড়েছে।
লাব্বাইক বাসের চালকের সহকারী জাতীয় সংসদ ভবনের আড়ংয়ের বিপরীত মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী হাঁকডাক করছেন। কিন্তু যাত্রী পাচ্ছেন না। বাসের ভেতরে মাত্র কয়েকজন যাত্রী দেখা যায়। ফলে বাসটির চালক প্রায় ২০ মিনিট সেখানেই দাঁড় করিয়ে রাখেন।
চালকের সহকারী রবিন বলেন, ‘সকাল ১০টায় সাভার থাইকা বাস ছাড়ছি। অহন ১১টা বাজতাছে। খুব অল্প সময়ে এইখানে আইসা পড়লাম। ভাবছিলাম, সকালে আড়ং মোড়ে কিছু যাত্রী পামু। কিন্তু যাত্রী তো পাওয়া যায় না।’
সেখান থেকে ফার্মগেট এসে ওভারব্রিজের দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাসের দেখা মিলল। বিহঙ্গ পরিবহনের চালকের সহকারীও যাত্রী ডাকছেন। কিন্তু তেমন যাত্রী নেই সেখানে। ওই বাসটির সামনে আরেকটি বাস যাত্রী না পেয়ে কারওয়ানবাজারের দিকে রওনা হয়।
বিজ্ঞাপন
রামপুরা-বাড্ডা সড়কে গত দুই দিনের তুলনায় বাসের সংখ্যা বাড়লেও তেমন যাত্রী নেই৷ ফাঁকা রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের যাত্রী বেশি চলতে দেখা গেছে রাজধানীর এই সড়কে।
বেশ কয়েকটি বাস চালকের সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকালও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা যাত্রী খরায় ভুগলেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কিছু যাত্রী পেয়েছেন। আজো হয়তো তেমনি হবে ভাবছেন তারা। তবে বাইরে রোদের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ বেলা ১২টার দিকে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে যাত্রী নেই।
তারা বলছেন, আজ সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে। ফলে রাতের দিকে অনেকে গ্রাম থেকে ফিরবেন। তখন রাত ১০টা থেকে ১২ টার মধ্যে কিছু যাত্রী পাওয়ার আশা করছেন তারা। আগামীকাল থেকে যাত্রী বাড়বে বলেও আশাবাদী তারা।
এমআইকে/এমআর




