শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

সংসদ ভবনের লেকে ছবি তুলে মোস্তফার বাড়তি আয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সংসদ ভবনের লেকে ছবি তুলে চলে মোস্তফার বাড়তি আয়
সংসদ ভবনের উত্তর পাশে থাকা লেকের তীর। ছবি: কোলাজ

ভাই আসেন, একটা ছবি তুলে যান। প্রতি ছবির জন্য মাত্র ২০ টাকা নেব। ডিএসএলআর ক্যামেরা আছে। প্রয়োজনে এই মোটরসাইকেলে বসে কিংবা পাশে দাঁড়িয়েও ছবি তুলতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই। তবুও আসেন।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে থাকা লেকের তীরে এভাবে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়া লোকজনকে অনুরোধ করছিলেন মোস্তফা।


বিজ্ঞাপন


সকাল থেকে হাতে গোনা কয়েকজনের ছবি তুলেছেন। তাতে আয় হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা। কিন্তু অন্যদিনগুলোতে সকাল থেকে দুপুর গড়াতেই তার পকেট টাকায় ভরে যায়। এরপর বাসায় চলে যান। বিশ্রাম ও খাওয়া শেষে আবার বাসা থেকে বের হন। রাত ১০টা পর্যন্ত ছবি তোলার কাজ চালিয়ে যান। এভাবেই প্রতি শুক্রবার ছুটির দিনে বাসায় বসে না থেকে অবসরকে কাজে লাগান তিনি।

মোস্তফা বলছিলেন, বেকার বাসায় বসে থেকে কী করব বলেন! আমার সিসি ক্যামেরার ব্যবসা আছে। ছয় দিন দোকান করি। বাকি এক দিন বাসায় শুয়ে-বসে ঘুমিয়ে কাটাতে পারতাম, কিন্তু সেটা করি না। এখানে আসলে অন্তত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পকেটে ঢোকে। এতে হাতখরচের পাশাপাশি নিজের শখের জিনিসও কিনতে পারি।

মোস্তফার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। ব্যবসার পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার সংসদ ভবন এলাকায় বিভিন্নজনের ছবি তোলেন। এতে ভালোই আয় হয় তার।

তিনি বলছিলেন, এভাবে মানুষকে ডেকে ডেকে ছবি তুলব, কখনো ভাবিনি। আজ প্রায় দুই বছর ধরে এখানে ছবি তুলছি। কখনো এভাবে ডাকতে হয়নি। আজই প্রথম লোকজনকে ডেকে ছবি তোলার জন্য বলছি।


বিজ্ঞাপন


মোস্তফা স্বচ্ছল, কিন্তু সময়কে কাজে লাগান। তার শখের একটি সুন্দর হলুদ রঙের বাইকও রয়েছে। সেটিতে চড়ে আসেন এবং সেটিকেই আবার ছবি তোলার কাজেও ব্যবহার করেন। যে কেউ চাইলে তার বাইকের ওপর বসে, শুয়ে কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন।

ঈদ উপলক্ষে তিনি প্রতি ছবির জন্য নিচ্ছেন মাত্র ২০ টাকা। তবে অন্য সময় ১০০ টাকা নেন। তিনি বলছিলেন, গ্রাহক কমে গেছে। গতকাল ঈদের দিন মাত্র আড়াই হাজার টাকা বাসায় নিয়ে গেছেন। তবে আজ সকাল থেকে মাত্র ৫০০ টাকা আয় হওয়ায় সেটিকে কম বলেই মনে করছেন তিনি।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৩০ জনের মতো ক্যামেরাম্যান সংসদ ভবনের উত্তর লেকের ধারে ছবি তোলার কাজ করেন। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিন হওয়ায় অনেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। যারা আছেন, তারাও এখন তেমন গ্রাহক খুঁজে পাচ্ছেন না।

তবে তার সামনেই এক যুবক আসলেন এবং এক তরুণ-তরুণীর ছবি তুলতে শুরু করলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনিও এক যুবকের ছবি তোলার প্রস্তাব পেলেন। এরপর তিনি ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর