ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে ঢাকার রাস্তাগুলো অনেকটাই ফাঁকা। ফলে অল্প সময়ে যে কোনো জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে। এতে অনেকে খুশি। তবে আবার অনেকে অখুশিও। বিশেষ করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। কারণ তাদের রুটি রুজিতে টান পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে শাহবাগ, ফার্মগেট, তেজগাঁও, আগারগাঁও, সংসদ ভবন এলাকা, উত্তরা ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে।
বিজ্ঞাপন
সংসদ ভবন এলাকায় ঘুরতে এসেছেন সাহাবুল ও সামি। তারা সংসদ ভবনের উত্তর পাশের লেকে বসে গল্প করছিলেন।
সামি বলছিলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে আজ ঘুরতে ভালোই লাগছে৷ রাস্তা এত ফাঁকা যে গতি তুলে এক্সিডেন্ট হয় কিনা সেটাও ভয় লাগছে।

এ এলাকায় রিক্সা নিয়ে এসেছেন জনি। তিনি বলছিলেন, আজ রাস্তা ফাঁকা থাকায় মনের খুশিতে রিক্সা নিয়া ঘুরছি। যাত্রী কম দুঃখ নাই কিন্তু ভালো লাগছে ঘুরতে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ভিন্ন চিত্রও পাওয়া গেছে। ফাঁকা ঢাকায় বাস চালিয়ে যাত্রী না পাওয়ায় মন খারাপ অনেক বাস চালক থেকে শুরু করে হেলপারের।
ফার্মগেটের উত্তর মোড়ে থাকা ওভারব্রিজের নিচে কথা হচ্ছিলো এয়ারপোর্ট পরিবহনের হেলপার আলমের সঙ্গে।
তিনি বলছিলেন, রাস্তা ফাঁকা। লোকজনও কম। কম সময় লাগতেছে যে কোনো মোড়ে পৌঁছাইতে কিন্তু মাগার যাত্রী নাই৷ সকাল থাইকা মাত্র ৮০০ টাকা তুলছি। সারাদিন কি হবে জানি না। ওস্তাদে কইতাছে এর চেয়ে বাসায় গিয়া ঘুমানো ভালো ছিল। তবুও বাস থামাইয়া ডাকতাছি যদি যাত্রী পাই।
তবে ফাঁকা ঢাকায় বাস চালাতে গিয়ে হেলপাররা বিপাকে পড়লেও খুশি অনেকে। তেজগাঁও মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে বের হচ্ছিলেন সামাদ। তিনি বলছিলেন, আজ ঢাকায় খুব ভালো লাগছে। রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারব।
গাড়ি এসে ধাক্কা দেবে এই ভয় নাই। ফলে তার কাছে এমন ঢাকা যদি প্রতিদিন থাকত বড়ই ভালো হতো।
ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেল, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাড়ি বা যানবাহনের সংখ্যা কম। ফলে রাস্তায় কোনো যানজট নেই। কোনো সিগন্যালে গাড়ি থামলেও কয়েক সেকেন্ড পরে তা আবারো সচল হচ্ছে। রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় যানবাহনগুলোও ব্যাপক গতি তুলছে। তবে এখনো ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার তেমন খবর মেলেনি।
এমআইকে/এআরএম




