রাজধানীর এতিম ও দুস্থ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের নতুন জামাকাপড়, টুপি ও উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়। শিশুরাও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পেরে বেশ আনন্দিত।
বুধবার (২৮ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে জেলা প্রশাসকের বাংলোয় এসব শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কল্যাণপুরের কমিশনার গলির মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্সের এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় বাংলোয় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবারই প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক এতিম ও দুস্থ শিশুদের সঙ্গে এভাবে ঈদ উদযাপন করলেন।
উপস্থিত এতিম শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, আমরা কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসকের বাসায় এসে ঈদের আনন্দ করব। নতুন জামা, টুপি আর এত সুন্দর আয়োজন পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আজ মনে হচ্ছে, আমরাও সবার মতো ঈদ করছি।
জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, আমাদের অনেকের বাবা-মা নেই। ঈদের সময় মন খারাপ থাকে। কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক আমাদের যেভাবে আদর করেছেন, মনে হয়েছে আমরা পরিবারের সঙ্গেই আছি।
রুমন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলে, স্যার আমাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। এই দিনটা আমরা কোনো দিন ভুলব না।
বিজ্ঞাপন
মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতি আব্দুল মাজীদ বলেন, এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মানবিক কাজ। জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ শিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তাঁর জন্য দোয়া করি।
ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও সেই আনন্দে শামিল হতে পারে। এতিম ও অসহায় এসব শিশুদের মুখের হাসিই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, অনেক শিশুই আছে, যারা ঈদের নতুন জামা বা পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পায় না। আমরা চেয়েছি, অন্তত একটি দিনের জন্য হলেও তারা যেন অনুভব করে—রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসন তাদের পাশে আছে। তারা একা নয়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই শিশুরাই আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের ভালোবাসা, যত্ন ও মানবিক পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। ঈদ হোক সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার উৎসব। সমাজের প্রতিটি দেয়াল ভেঙে এই উৎসব ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি জেলা প্রশাসক, আমি তো মা-ও। সন্তানের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা আমাকে স্পর্শ করে। সেই বোধ থেকেই আমরা চেয়েছি আমাদের এসব সন্তানকে নিয়ে একটি ভালো মুহূর্ত কাটাতে।
বিইউ/এআর




