বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

দেড় লাখের গরু ১ লাখ! বেপারীর কান্না

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

গাবতলী হাটে দেড় লাখের গরু ১ লাখ! দুশ্চিন্তায় বেপারীরা
রাজধানীর গাবতলী হাটে বিপাকে পড়েছেন বেপারীরা। ছবি: ঢাকা মেইল

রাজধানীর গাবতলী হাটে দেড় লাখ টাকার গরুর দাম লাখ টাকার নিচে বলছেন ক্রেতারা। ফলে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বেপারীরা। তাদের মতে, সকাল থেকেই গরু বিক্রি নেই। তার ওপর বিকেল থেকে হঠাৎ করেই দাম পড়ে গেছে।

টাঙ্গাইল থেকে তিনটি গরু নিয়ে এসেছিলেন মুসা আহমেদ। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, গতকাল যে গরুর দাম ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলছিল, আজ সেটির দাম ৯০ হাজার টাকা বলছে। এর বেশি কেউ উঠছে না। তবে কেউ লাখ টাকা বললে দিয়ে দেব, সেই অপেক্ষায় আছি।


বিজ্ঞাপন


শুধু মুসা নন, মিরপুর থেকে আসা আসাদুল্লাহ নামের এক ক্রেতাও জানান, আজ গরুর দাম খুব কম। তার ভাষায়, আজ পানির দামে গরু বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার রাতে গাবতলী হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে কথা হয় মানিকগঞ্জ থেকে আসা গরু বিক্রেতা হাফিজুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছিল চারটা গরু। গতকাল তিনটা, আজ একটা বিক্রি করলাম। আজকের গরুটি কেনা পড়েছিল ৯০ হাজার টাকা, কিন্তু সেটি মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। উপায় নেই, বাজারে দামই নেই।

Eid


বিজ্ঞাপন


বেপারীরা বলছেন, সকালে কিছু ভারতীয় গরু হাটে ঢুকেছে। তখন থেকেই গরুর দাম কিছুটা কমতে শুরু করে। তবে বিকেলের পর থেকে একেবারেই দাম নেই।

সাভার থেকে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ছয়টি গরু নিয়ে এসেছেন হাসানুল। তার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনজন ক্রেতা আসেন। তারা তার ২ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি গরুর দাম বলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে তিনি সেটি বিক্রি করেননি।

হাসানুল বলেন, আজ হাটের অবস্থা খুব খারাপ। আমার আশপাশের বেপারীরা সবাই পানির দামে গরু বিক্রি করছেন। ক্রেতারা লাখ টাকার গরুর দাম ৫০ হাজার টাকার বেশি বলতে চাইছেন না।

মোশারফ হোসেন এসেছেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকা থেকে। তিনি সাভারের একটি কলেজ থেকে ইন্টার পাস করেছেন। তবে বর্তমানে আর পড়াশোনা করছেন না। তিনি বলেন, আমি পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছি। বিক্রি করেছি দুটি। বাকি তিনটির দাম লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু প্রতিটি গরুর দরদাম হচ্ছে ৫০ হাজার টাকার কিছু বেশি। তাঁর মতে, গতকাল রাত ১২টার পর থেকেই বাজার পড়ে গেছে। আজ সারাদিন কোনো গরুর দাম নেই।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির সাত দিন পর এলাকায় বিক্রি করলে এসব গরু লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করা যাবে। তাহলে এই হাটে ৫০ হাজার টাকার একটু বেশি দামে কেন গরু ছেড়ে দেব? তার মতে, সিঙ্গাইরের গরুর বেশ চাহিদা রয়েছে। কুষ্টিয়া ও অন্য অঞ্চল থেকে যারা গরু নিয়ে আসেন, তাঁদের গরুর সঙ্গে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের গরুর আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাঁদের একটি গরু ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হলে আমরা একই গরু ১০ হাজার টাকা বেশি পাই। কারণ, আমরা গরুগুলো প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করি। কিন্তু আজকের বাজারের অবস্থা এত খারাপ যে হতাশ হয়ে পড়েছি।

রাজধানীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা সুমন ছোট ভাইকে নিয়ে গরুর হাটে এসেছিলেন। বিকেল থেকে ঘুরে রাতে তিনি একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ২২ হাজার টাকায়। যে গরুটি গতকাল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আজ গরুর দাম খুব কম। আমরা গতকাল হাটে এসেছিলাম, কিন্তু তখন গরুর দাম বেশি ছিল। আজ কম টাকায় গরু পাওয়া গেছে। তার মতে, বেপারীরা কম দামে গরু ছেড়ে দিচ্ছেন।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা খুশি থাকলেও বেপারীদের মন খারাপ। অধিকাংশ বেপারী ও বিক্রেতা বসে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। কাউকে দেখলেই তারা জিজ্ঞেস করছেন, গরু কিনবেন কি না।

হাটের হাসিলঘরগুলোতেও কোনো ভিড় নেই। সেখানকার কর্মীরাও বসে সময় কাটাচ্ছেন।

Eid

হাসিলঘরের কর্মী সোহান বলেন, গতকাল একটি গরুর জন্য আমার কাছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিল। আজ সেই গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি তো সেই গরু কিনব না। আজ মনে হচ্ছে, ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় এর চেয়ে ভালো গরু পাওয়া যাবে।

শামীম হোসেন এসেছেন নাটোর থেকে। তিনি ২৪টি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে ২১টি বিক্রি করেছেন। তবে বাকি তিনটি গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। প্রতিটি গরুর দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাইলেও ক্রেতারা লাখ টাকাতেও কিনতে রাজি হচ্ছেন না।

শামীমের পাশের বেপারী লিটন একটি গরুর দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু এক ক্রেতা সেটির দাম মাত্র ১ লাখ টাকা বলেই চলে যান।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর