বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

রাজধানীজুড়ে অবৈধ পশুর হাট, বাড়ছে জনভোগান্তি

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজধানীজুড়ে অবৈধ পশুর হাট, বাড়ছে জনভোগান্তি
রাজধানীর সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও খালি জায়গা দখল করে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। ছবি: ঢাকা মেইল
  • যানজটে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর
  • রশিদ ছাপিয়ে চলছে হাসিল আদায়ের অভিযোগ
  • জরুরি যানবাহনও আটকে পড়ছে যানজটে
  • পশু ছুটে দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের
  • নগর ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। দিনটিকে সামনে রেখে রাজধানীর সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও খালি জায়গা দখল করে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। সরকারি অনুমোদিত হাটের পাশাপাশি অসংখ্য অননুমোদিত হাট গড়ে ওঠায় নগরজীবনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভোগান্তি। কোথাও রাস্তার ওপর বাঁশ-ত্রিপল টাঙিয়ে গরু-ছাগল রাখা হচ্ছে, কোথাও ফুটপাত কিংবা গলির মুখে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে চলছে পশু বিক্রি। এতে যানজট, দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি একসঙ্গে বেড়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


নগরবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে এসব অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান ও নজরদারির কথা বলা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঈদকে সামনে রেখে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবার ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে। স্থায়ী দুটি পশুর হাটসহ মোট হাটের সংখ্যা ২৬ হলেও বাস্তবে এর বাইরেও অসংখ্য স্থানে পশু বিক্রি চলছে।

মিরপুর, ভাটারা, বাড্ডা, খিলক্ষেত, কুড়িল, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, রামপুরা ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, গলির ভেতরে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাঁশ পুঁতে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশের খালি জায়গা দখল করে বড় আকারের অস্থায়ী বাজার বসানো হয়েছে। ফলে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। অফিস শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পশুর গোবর ও উচ্ছিষ্ট খাবার মিশে সড়ক পিচ্ছিল ও দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ঈদের আগের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

1


বিজ্ঞাপন


দেখা গেছে, অনেক জায়গায় অস্থায়ী হাসিল ঘর বসিয়ে টাকা আদায়ও চলছে। কিছু এলাকায় পশুবাহী ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুল হক বলেন, এখন গলি দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগল রাখার কারণে রিকশা পাশ কাটাতে পারে না, আবার হঠাৎ পশু ছুটে এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য পুরো এলাকার মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল কঠিন হয়ে গেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ বাড়ছে। আশপাশের বাসাবাড়ির জানালা খুলে রাখাও যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে লোকজন এলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পশু বিক্রেতারা বলছেন, মহল্লাভিত্তিক এসব ছোট ছোট বাজার স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক। মিরপুর এলাকার এক বিক্রেতা নুরে আলম বলেন, বড় হাটে যেতে অনেক মানুষের কষ্ট হয়। বৃষ্টি, কাদা ও যানজট পেরিয়ে গরু দেখতে যেতে হয়। মহল্লার ভেতরে গরু রাখলে মানুষ সহজে দেখে কিনতে পারে। কয়েকটি গরু রাস্তার পাশে রাখায় তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং এতে স্থানীয়দের সময় ও পরিবহন খরচ কমছে। তবে সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ীও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা বলছেন, ঈদের সময় সাময়িকভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকতেই পারে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িক এই ব্যবস্থাই এখন পুরো নগরের জন্য স্থায়ী ভোগান্তির রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি লেগে থাকে। গরু নামানো, ট্রাক পার্কিং ও ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। অনেক সময় জরুরি যানবাহনও আটকে পড়ছে। অথচ প্রশাসনের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। তিনি বলেন, অনুমোদিত হাটের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যা কম হতো। কিন্তু এখন পুরো এলাকাই যেন পশুর বাজারে পরিণত হয়েছে।

শাহবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজ বলেন, এই থানার পলাশী মোড় এলাকায় এসএম হলের সামনে অবৈধভাবে ছাগলের হাট বসানো হয়েছে। সেখানে রশিদ ছাপিয়ে হাসিল আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। হাটের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

2

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে টানাপোড়েনও স্পষ্ট। বিক্রেতাদের দাবি, গরু পালনের খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর দাম বেশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, মাঝারি আকারের গরুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে চাওয়া হচ্ছে। তেজগাঁওয়ে গরু বিক্রি করতে আসা জামালপুরের ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, একটি গরু কিনতেই তাঁর দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ ও পশুর খাবার মিলিয়ে আরও অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা সেই তুলনায় কম দাম বলছেন।

অপরদিকে ক্রেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, ছোট ও মাঝারি গরুর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। যেসব গরুর দাম দেড় লাখ হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ওজনভিত্তিক বিক্রির ব্যবস্থা চালু করা গেলে দাম নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা অনেক কমে আসত।

হাজারীবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। শিকদার মেডিকেল-সংলগ্ন নির্ধারিত স্থানের বাইরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তা দখল করে পশুর হাট বসেছে। হাজারীবাগ থানা রোড, কালুনগর ও বেড়িবাঁধে ওঠার রাস্তায় সারি সারি গরু বাঁধা। অনেক জায়গায় রিকশা ও সিএনজিচালকদের ওই পথে যেতে নিষেধ করে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ রেজা বলেন, রাস্তায় গরুর হাট বসানোর কারণে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্য বাসিন্দা আযহার বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে হাট থাকলে সমস্যা ছিল না, কিন্তু এখন মানুষের চলাচলের রাস্তাই দখল হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ বাড়ছে।

হাজারীবাগের ওই হাটের ইজারাদারপক্ষের প্রতিনিধি হুমায়ুন রশীদ বলেন, তাঁরা ব্যবসায়ীদের রাস্তার ওপর গরু না বসাতে বলেছিলেন। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী বেশি ক্রেতা পাওয়ার আশায় রাস্তার ধারে গরু নিয়ে বসেছেন। বছরের পর বছর ধরেই এখানে এভাবে হাট বসে আসছে।

এদিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর বাজার এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চলতি বছরে ইজারা দেওয়া পশুর হাটের তালিকায় সাদুল্লাপুরের নাম নেই। তারপরও সেখানে প্রকাশ্যে গরু-ছাগল কেনাবেচা চলছে এবং হাসিল আদায় করা হচ্ছে। হাটের প্রবেশমুখে কয়েকজন যুবক পশুর বিক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে টাকা নিচ্ছেন। তবে হাটটি বৈধ না অবৈধ, তা নিয়ে বেশির ভাগ ক্রেতার আগ্রহ নেই। তারা মূলত কম দামে পশু কিনতেই এখানে আসছেন।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম বলেন, এলাকার মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এই পশুর হাট বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হওয়ার পর এখন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন। তবে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া সরকারি জমিতে হাট বসানোর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এভাবে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পশুর হাট ছড়িয়ে পড়া শুধু যানজটের কারণ নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতারও প্রতিফলন। পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে পশুর হাট বসলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ে এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগও বাড়াচ্ছে। প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় প্রভাবশালীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধ হাট বন্ধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘোষণা দিলেই হবে না, বাস্তবে কঠোর ও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। অন্যথায় রাজধানীর নগরজীবন আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, অনুমোদিত হাটের বাইরে পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অননুমোদিত হাট বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাস্তব চিত্র তার উল্টো। নির্ধারিত সময়ের আগেই অস্থায়ী হাটগুলো পশুতে পূর্ণ হয়ে গেছে। রাস্তার দুই পাশে গরু-ছাগল রাখা হচ্ছে, কোথাও আবার ফুটপাত পর্যন্ত দখল করা হয়েছে। ক্রেতাদের ভিড় এখনও সীমিত হলেও বিক্রেতারা আশা করছেন, ঈদের আগের দুই-তিন দিনে বেচাকেনা জমে উঠবে। তবে সেই সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

3

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ইজারাদারদের কঠোরভাবে নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হাট ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কোনো জায়গায় সীমানা লঙ্ঘন বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন, ইজারাদার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এ ধরনের হাট সম্প্রসারণ সরাসরি ইজারা শর্তের লঙ্ঘন। নির্ধারিত জায়গার বাইরে হাট বিস্তৃত হলে সেটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, নগর ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতার প্রতিফলন। যেখানে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে না থেকে যদি রাস্তা ও শিল্পাঞ্চল দখল করা হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। এটি বন্ধ করতে হলে সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা দরকার ছিল।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এটি রাষ্ট্রের সুশাসন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার চিত্র। রাষ্ট্রে কার্যকর সুশাসন থাকলে কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিচে পশুর হাট বসানোর সাহস পেত না। এর অর্থ হচ্ছে, রাষ্ট্রের বার্তাই দুর্বল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে কাজ করছে না। মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিচে কেউ হাট বসানোর চিন্তা করবে, এটিই অস্বাভাবিক। সেখানে এমন শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা থাকার কথা, যাতে কেউ এমন পরিকল্পনা করার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর