কুচকুচে কালো রঙের বিশাল দেহ। ওজন ১৬০০ কেজির বেশি। দাঁড়ালে অনেকটা পাহাড়ের মতোই মনে হয়। রঙে দেহের সঙ্গে মিল রেখে নামও রাখা হয়েছে ‘কালোপাহাড়’। প্রায় একই আকৃতির তবে ওজন ১০০০ কেজি। রঙও ভিন্ন, ধবধবে সাদা। তাই নাম তার রাখা হয়েছে ‘সাদাপাহাড়’।
কথা হচ্ছে রাজধানীর কোরবানি পশুর হাটে উঠানো দুটি দৈত্যাকার ষাঁড় গরু নিয়ে। দুটি হলেও মালিক একই। একই সঙ্গে লালন-পালন হয়েছে। বিক্রির জন্য হাটে রাখাও হয়েছে একই সঙ্গে। জোড়া গরুর দাম হাকানো হচ্ছে ৩৩ লাখ টাকা।
বিজ্ঞাপন
কালোপাহাড় ও সাদাপাহাড়কে উঠানো হয়েছে রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন হাটে। হাট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই দুটিই হাটটির এবারের সবচেয়ে বড় গরু। হাট কর্তৃপক্ষ থেকেও মাইকে বৃহত্তর গরু বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শোনা যায়।
সোমবার (২৫ মে) গিয়ে দেখা যায়, গরু দুটিকে ঘিরে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। তাদের অনেকেই আসছেন কৌতূহলবশত। কেউ কেউ আসছেন গরুটি কিনতেও। কিন্তু দরদামে না মিলায় এখনো কোনটিই বিক্রি হয়নি।
নড়াইল লোহাগড়ার ভাই ভাই এগ্রো ফার্মে তিন বছরের বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠে অস্টেলিয়ান জাতের গরু দুটি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে বলে দাবি খামারীর।
কথা হলে খামারী শহিদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমার খামার আছে। কোরবানির জন্য প্রতিবছরই অনেক দেশী জাতীয় গরু সরবরাহ করি। তিন বছর আগে শখের বসে অস্ট্রেলিয়ার উন্নত জাতের দুটি ছোট বাছুর কিনে খামারে লালন-পালন করে বড় করে তুলি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে নিজের হাতে গরু দুটি লালন-পালন করেছি। কাঁচা ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড় খাইয়ে বড় করেছি। ওদের মোটাতাজা করার জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।
শহিদুল বলেন, কালোটার প্রতিদিন ভূসিই লাগে ১০ কেজি। সাদাটার লাগে ৭ কেজি। একেকটা ৩০ থেকে ৪০ কেজি ঘাস খায়। অন্যান্য খরচ তো আছে। একেকদিন কালোটার খরচ আছে প্রায় হাজার টাকা। অন্যটার দুই একশ টাকার কম হবে।
নাম রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে ছোট থেকে কালাবাবু ও সাদাবাবু বলে ডাকতাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর যখন পাহাড়ের মতো দেখা যায় তখন কালোপাহাড় ও সাদাপাহাড় নাম দেই।

দামদরের বিষয়ে খামারী বলেন, কালোপাহাড়ের লাইভ ওয়েট ১৬০০ কেজি, যার দাম ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাচ্ছি। আর সাদাপাহাড়ের লাইভ ওজন ১০০০ কেজির বেশি, এটির দাম ১৫ লাখ ৫০ হাজার বলছি।
গরু নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, কেনার জন্য অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনো কেউ বিক্রির মতো দাম বলেনি।
কেমন হলে বিক্রি করবেন? উত্তরে তিনি বলেন, বিক্রির জন্যই এনেছি। ফেরত নিতেও অনেক খরচ। আবার কোরবানি ছাড়াও বিক্রি করা কঠিন হবে। আবার ১ বছর পাললে অনেক খরচও হবে। তাই প্রকৃত ক্রেতার জন্য সবকিছু বিবেচনা করে ছাড় দেওয়া হবে।
এএম/এফএ




