- টিকিট কাউন্টারগুলোতে হাকডাক
- ঢাকা-রংপুর রুটে ভাড়ায় আগুন
- লোকাল বাসও চলছে দূরপাল্লায়
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে উত্তরের ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই যাত্রীরা টার্মিনালে আসছেন। রাত আটটা থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাস ছাড়তে শুরু হয়েছে। রাত ১টা পর্যন্ত বাস ছাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাড়তি ও দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৫ মে) রাতে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রী, কাউন্টারকর্মী ও হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ঘরমুখো কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম টিকিট কেটেও অনেকে স্বস্তি পাচ্ছেন না। আবার যারা আগে টিকিট কাটেননি, তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
পঞ্চগড়গামী যাত্রী ফরহাদ বলেন, ‘আগে টিকিট কেটেছিলাম বলে ভেবেছিলাম দুর্ভোগ কম হবে। কিন্তু যারা আগাম টিকিট কাটেননি, তাদের আজ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’
নওগাঁর সাপাহারগামী তিন বন্ধু শফিকুল, রিয়াজ ও হুমায়ুন মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সোমবার বেতন পাওয়ার পর বিকেলে প্রস্তুতি নিয়ে রাতে টার্মিনালে আসেন তারা।
বিজ্ঞাপন

রিয়াজ বলেন, ‘অন্য বছরগুলোর মতো এবার তেমন ভিড় বা বাস লেটের ঝামেলা দেখছি না। আশা করছি, গাড়ি সময়মতো ছাড়লে সকালে পৌঁছে যাব।’
টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারে তখনো যাত্রী ডাকাডাকি চলছিল। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়গামী বাসের কাউন্টারগুলোতে বেশি তৎপরতা দেখা যায়। কেউ এসি বাসের টিকিটের কথা বলছেন, আবার কেউ নন-এসি বাসের জন্যও বেশি ভাড়া চাইছেন।
টার্মিনালের পশ্চিম পাশের মূল সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই বন্ধু আনিস ও রেজা। একটি চলন্ত বাস থামলে তারা ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাড়া শুনে পিছিয়ে যান। নীলফামারীর জলঢাকাগামী ওই বাসে জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছিল।
রেজা বলেন, ‘অন্য সময়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় যাওয়া যায়। কিন্তু এখন অনেক বেশি ভাড়া চাচ্ছে। আমরা শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরছি, তাই আগাম টিকিট কাটতে পারিনি।’
কিছু দূরে নাফিয়া পরিবহনের একটি বাসে যাত্রী তুলছিলেন এক হেলপার। তিনি রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত ভাড়া চাইছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। কয়েকজন যাত্রী তড়িঘড়ি করে বাসে উঠলেও অনেকে ফিরে যান।
এক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় বাস থামিয়ে উঠালে ১ হাজার ২০০ টাকা চাচ্ছে, আর কাউন্টারে দেড় হাজার টাকা।’
লোকাল বাসও দূরপাল্লায়
প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর বিভিন্ন লোকাল বাস দূরপাল্লার যাত্রী বহন করছে। গত বছর এমন প্রবণতা কিছুটা কম থাকলেও এবার আবার বেড়েছে।

মিরপুর থেকে রামপুরা-ডেমরা রুটে চলাচলকারী অছিম পরিবহনের একটি বাসে বগুড়াগামী যাত্রী তোলা হচ্ছিল। বাসটির হেলপার ডাকাডাকি করে বলছিলেন, ‘ঢাকা টু বগুড়া ডাইরেক্ট, ৭০০ টাকা।’ কয়েকজন যাত্রীকে তখন বাসে উঠতেও দেখা যায়।
অন্যদিকে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসের হেলপারকে ‘ঢাকা টু রাজশাহী’ বলে যাত্রী ডাকতে দেখা যায়। তিনি ভাড়া চাইছিলেন ৬০০ টাকা।
টার্মিনালের ভেতরের কাউন্টারগুলোতেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল। ছুটি শুরুর দিনেও অনেকে কাউন্টারে এসে টিকিট কিনছিলেন। তবে প্রায় সব রুটেই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্যামলী পরিবহনের একটি এসি বাসে রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা। আর সেন্টমার্টিন পরিবহনে একই গন্তব্যে ভাড়া চাওয়া হচ্ছিল ২ হাজার টাকা।
এক কাউন্টারকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টিকিটগুলো তারা মালিকপক্ষের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। পরে চাহিদা অনুযায়ী বেশি দামে বিক্রি করছেন। তার ভাষায়, ‘ঈদের সময় এটাই আমাদের বাড়তি আয়।’
এমআইকে/এআর




