রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

সাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগে আশাবাদী সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগে আশাবাদী সরকার
সাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগে আশাবাদী সরকার। ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্র এলাকায় তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন দেশীয় সম্পদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, এবার দেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে।

রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ এবং অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার না করে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। আমরা খুবই স্বচ্ছ। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। বিনিয়োগ আসবে, তবে তা অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রথম সফল বিডিং রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিক পিএসসি চুক্তির মাধ্যমে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র ও সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল, যা দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

মন্ত্রী জানান, সমুদ্রাঞ্চলে তেল–গ্যাস অনুসন্ধান অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলছে। ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাপেক্সকে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিডিং রাউন্ড আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে। দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব সুবিধা রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর আওতায় মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি শ্যালো সি এবং ১৫টি ডিপ সি ব্লক। ডিপ সি অঞ্চলে দুটি সংলগ্ন ব্লকের জন্য একক চুক্তির সুযোগও রাখা হয়েছে।

নতুন অফশোর মডেল পিএসসি–তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ, তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি, পাইপলাইন ট্যারিফ সুবিধা, বিনিয়োগ সুরক্ষা, বিভিন্ন বোনাস ও প্রশিক্ষণ অনুদানের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার দেশের জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা ও ভুলত্রুটি সংশোধন করে এবার একটি সফল অফশোর বিডিং রাউন্ড আয়োজন করতে চাই। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর