রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে এসেছেন এই হাটে। কোথাও বিশাল আকৃতির গরু ঘিরে মানুষের কৌতূহল, কোথাও আবার ছোট ও মাঝারি গরু নিয়ে চলছে দরদাম।
শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত হাট পুরোপুরি জমে না উঠলেও আজ (রোববার) থেকে মূল বেচাকেনা শুরু হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সকালে হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় হাজারো গরু। কোথাও খামারিরা গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কোথাও আবার খাবার খাওয়াচ্ছেন। অনেক বিক্রেতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুর নাম, ওজন ও খামারের গল্প শোনাচ্ছেন। ধুলাবালি ও যানজটের কিছু সমস্যা থাকলেও রাজধানীর অন্যতম বড় পশুর হাট হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়ছে মানুষের ভিড়।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ থেকেই মূলত বেচাকেনা জমে উঠবে। তাই যারা কোরবানির পশু কিনতে চান, তাদের জন্য দিয়াবাড়ির হাট হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য। এখানে বিভিন্ন জেলার খামারিদের আনা দেশি-বিদেশি নানা জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় গরু দেখার পাশাপাশি দরদাম যাচাইয়েরও সুযোগ রয়েছে।
হাটের এক পাশে বিশাল কালো রঙের একটি গরুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। গরুটির মালিক বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন। তিনি জানান, গরুটির নাম রেখেছেন ‘কালা মানিক’। প্রায় ৪৫ মণ ওজনের এই বিশাল দেহের অধিকারী গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২২ লাখ টাকা।
বিজ্ঞাপন
সোহাগ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নিজ খামারে গরুটি লালন-পালন করেছেন। নিয়মিত উন্নত খাবার ও পরিচর্যার কারণে গরুটি এত বড় হয়েছে। হাটে আনার পর থেকেই অনেকে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। এখনো চূড়ান্ত দর না পেলেও ভালো দামেই বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
একই হাটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল জলিল ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এই ব্যবসায়ী জানান, তিনি ও তার এক সহযোগী মিলে গরুগুলো খামারে পালন করেছেন। কয়েকদিন ধরে হাটে থাকলেও এখনো বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়নি। তবে বিকেল গড়ালেই বাজার জমে উঠবে।
জলিল বলেন, এখন মানুষ মূলত ঘুরে ঘুরে গরু দেখছে। অনেকে দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। সন্ধ্যার পর থেকে এবং আগামী দু-এক দিনে আসল ক্রেতারা আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।
হাটের আরেক প্রান্তে বিশাল সাদা-কালো রঙের একটি গরু নিয়ে বসেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ব্যবসায়ী রুবেল শেখ। তিনি জানান, তার গরুটির ওজন ১২০০ কেজির বেশি, অর্থাৎ ৩০ মণ। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।
রুবেল শেখ আরও জানান, বড় গরুর ক্রেতা তুলনামূলক কম হলেও যারা কিনতে আসেন তারা আলাদা আগ্রহ নিয়ে দেখেন। অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসেন। তবে শেষ সময়ে বড় গরুর ভালো দাম ওঠে বলেই তিনি আশা করছেন।
রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে আসা ছোট খামারি নুর ইসলাম হাটে এনেছেন ২৬টি গরু। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ছয়টি বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, বাড়ির ছোট খামার থেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করছেন। টিনের ঘর আর সীমিত জায়গার মধ্যেই কষ্ট করে গরুগুলো বড় করেছেন।
নুর ইসলাম বলেন, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা এবার বেশি। কারণ সাধারণ মানুষ এখন বাজেটের মধ্যে কোরবানির পশু খুঁজছেন। তিনি আশা করছেন, বাকি গরুগুলোও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে।
শুধু ব্যবসায়ী নন, হাটে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও। রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে গরু দেখতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্তভাবে গরু কেনেননি। বিভিন্ন হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন। এবার বড় গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর মধ্যে কিছুটা সহনীয় দাম দেখা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে ভালো গরু না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আগেভাগেই বাজার দেখতে এসেছেন।
হাটে গরু দেখতে আসা আরেক ক্রেতা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, দিয়াবাড়ির হাটে গরুর বৈচিত্র্য বেশি। ছোট, মাঝারি থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির গরুও আছে। পরিবার নিয়ে এসে কয়েকটি গরু পছন্দ করেছেন। এখন দরদাম মিললে কিনবেন। তিনি মনে করেন, আজ থেকে বাজার আরও জমে উঠবে এবং তখন আসল মূল্য বোঝা যাবে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আসা স্কুলশিক্ষক আবু তাহের বলেন, এবার বাজেট কিছুটা কম। তাই মাঝারি আকারের দেশি গরু খুঁজছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতাই এখন বেশি দাম বলছেন, কিন্তু ঈদের দুই-তিন দিন আগে দাম কিছুটা কমতে পারে। তাই আপাতত বাজার ঘুরে দেখছেন এবং বিভিন্ন গরুর স্বাস্থ্য ও দাম তুলনা করছেন।
এএইচ/এএইচ




