পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরে ফেরার যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন রোববার (২৪ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছিল ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখর। সড়কের ভোগান্তি এড়াতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন। আর সেই যাত্রায় স্টেশনজুড়ে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ, ব্যস্ততা ও স্বজনদের কাছে ফেরার আনন্দ।
১৪ মে যারা টিকিট কেটেছিলেন, তারা আজ রোববার যাত্রা করছেন।
বিজ্ঞাপন
রোববার ভোর থেকেই স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের সমাগম বাড়তে দেখা যায়। টিকিট চেকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ করানো হচ্ছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ করতে ছাদে যাত্রী ওঠা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রেল কর্তৃপক্ষ।
স্টেশনে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় আছেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হলেও বাড়ি ফেরার টানে সবার চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছাপ।
ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কেউ পরিবারসহ ঢাকা ছাড়ছেন, আবার বেসরকারি চাকরিজীবীদের কেউ পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রী জানান, সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে তারা ঈদের আগেই যাত্রা শুরু করছেন।
একটি গণমাধ্যমে কর্মরত সাজেদুল হক বলেন, ‘ঈদের সময় শেষ মুহূর্তে ট্রেনে উঠতে গেলে অনেক ভিড় আর ঝামেলা হয়। তাই এবার পরিবারকে আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আশা করছি তারা স্বস্তিতেই বাড়ি পৌঁছাতে পারবে। অফিস ছুটি হওয়ার পর আগামী মঙ্গলবার রাতে আমি বাড়ি ফিরব।’
বিজ্ঞাপন

রংপুরে যাওয়ার জন্য সকালে কমলাপুর স্টেশনে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই ট্রেনে যাওয়াটাই নিরাপদ মনে হয়েছে। আগেভাগে চলে যাচ্ছি, এতে যাত্রাটাও আরামদায়ক হবে।’
একই রুটে পরিবারসহ যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসেন তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ঠিক আগে যাত্রা করলে অনেক সময় ট্রেন দেরি করে। বাচ্চাদের নিয়ে তখন ভোগান্তি হয়। এজন্য দ্বিতীয় দিনেই রওনা হচ্ছি।’
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে গেলেও ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে বিলম্বে হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি ছাড়ার কথা থাকলেও দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে সকাল ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ ছাড়তে পারে বলে জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি কষ্টে পড়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ‘লালমনিরহাট থেকে আসার পথে বগুড়ার একটি স্থানে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। সে কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। পরে সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৫০ মিনিট। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে সমস্যা হলে সেটি তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।’
আজ ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি মেইল কমিউটারসহ মোট ৬৬ ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে বলে স্টেশন সূত্রে জানা যায়।
এমআর




