জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অন্যতম বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। এই সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় নারীদের নেতৃত্ব, অভিযোজন সক্ষমতা ও জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ভয়েজ অব কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিলেন্স’।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর জেন্ডার-রেসপনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবনসংগ্রাম, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জীবিকাগত সংকট মোকাবিলার নানা দিক আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প জীবিকা, পানি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোজন উদ্যোগও এতে স্থান পেয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নারীদের ভূমিকা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। অথচ উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবার ও সম্প্রদায়ের টিকে থাকার লড়াইয়ে নারীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার পাশাপাশি নারীভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, জিসিএ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল মাহমুদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের প্রধান সর্দার এম আসাদুজ্জামান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল কাইয়ুমসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, আগামী ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত থাকবে। এতে আলোকচিত্রী এ.বি. রশিদের ধারণ করা প্রায় ৮৫টি স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। সরাসরি প্রদর্শনীর পাশাপাশি এটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, জিসিএ প্রকল্প উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। নিরাপদ পানি, টেকসই জীবিকা ও নারী নেতৃত্বভিত্তিক অভিযোজন উদ্যোগ জোরদারেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখছে।
এমআর/এআরএম




