বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

৩ বছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

wasj news
প্রাক-বাজেট সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আসন্ন বাজেটে ওয়াশ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ছবি: ঢাকা মেইল

দেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে সরকারি বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ খাতে বরাদ্দের এই ধারাবাহিক পতন জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আসন্ন বাজেটে ওয়াশ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানায়। ব্রিফিংয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং পিপিআরসির যৌথ বাজেট বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এই বরাদ্দ কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মাত্র তিন বছরে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।

পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও ওয়াশ খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের দীর্ঘদিনের অর্জিত পানি ও স্যানিটেশন খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের নীতি ও প্রচার প্রধান অ্যাডভোকেট ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত সুপেয় পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। শহর ও গ্রামের মধ্যে নিরাপদ পানির প্রাপ্তিতে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


বিজ্ঞাপন


ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ওয়াশ খাতের বাজেট বণ্টনে চরম বৈষম্য বিদ্যমান। মোট উন্নয়ন বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরাঞ্চল ও ওয়াসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসাই এককভাবে প্রায় ২৯ শতাংশ বরাদ্দ পাচ্ছে।

সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যেও বৈষম্য রয়েছে বলে জানানো হয়। ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশের বেশি পেয়ে যাচ্ছে, অথচ রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোনো বরাদ্দই পাচ্ছে না।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, চর, হাওর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকার মতো প্রান্তিক অঞ্চলে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ জাতীয় তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে এসব এলাকায় এখনো নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।

মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতেও চরম ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, শহর এলাকায় নিরাপদ বর্জ্য অপসারণের হার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় তা প্রায় শূন্য।

আইডব্লিউএর প্রতিনিধি মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পানি সংকট তৈরি করতে পারে।’

এ পরিস্থিতিতে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আসন্ন বাজেটে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার, মাসিক ওয়াশ ভাতা চালু, স্কুল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে।

বক্তারা বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরিচালন সহায়তা দিতে হবে, যাতে তৈরি হওয়া সুবিধাগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে পরিচালিত হয়।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর