বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘চার বছরের মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর’ 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘চার বছরের মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর’ 

সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে।’তিনি বলেন, ‘নারীদের সাবলম্বী করতে এরইমধ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। রাজধানীর খাল বিল নদী দূষণ বন্ধে বাসা মালিকদের সেফটি ট্যাংক নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।‘

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজন করা হয় ‘পিপলস ম্যান্ডেট: সিটিজেন ডায়ালগ অন ম্যানিফেস্টু টু এ্যাকশন’। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।

একই অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন দেশের জন্য বড় হুমকি। ঝড়-দূর্যোগ মোকাবেলা করে উপকূলের মানুষকে টিকে থাকতে হচ্ছে। নদনদী খাল বিল যুগের পর যুগ খনন না করায় দখল দূষণ বেড়েছে। এসব দখল দূষণেরসঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মী কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে থাকে।
 
তরুণদের উদ্দ্যেশে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। এই তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
 
শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষণে নদী দূষণ বাড়ছে এমন মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রানীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দীন টুকু বলেন, এই দূষণের কারণে ইলিশ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে মৎস্য উৎপাদনের যে পরিকল্পপনা তা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
 
অনুষ্ঠানে নদ নদী দখলের জন্য রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের দায়ী করেন সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও নির্বাচনের পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায় না ক্ষমতাশীলরা। তবে ইশতেহার বাস্তবায়নে বিরোধী দলগুলো কতটা সহায়তা করছে তাও দেখতে হবে।
 
শুধু দোষারোপের রাজনীতি করলে সংকট সমাধান হবে না বলে জানান হান্নান মাসুদ।।

সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার বলেন, এ বছর প্রায় ৯১৫ হেক্টর জমি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে  যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মানুষ উদ্বাস্তুর হার বাড়বে। শহরের উপর চাপ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুকি দিন দিন বাড়ছে। নদী ভাঙ্গন আর উদ্বাস্তুর হার কমাতে হলে এখনই পরিকল্পনা দরকার।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কেন যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবেশবিদরা। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে বিশ্ব এখন হুমকির মুখে। সরকার সেদিকেই যাচ্ছে। নবায়ন জ্বালানিতে না গিয়ে সরকার কয়লা বিদ্যুতের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

পরিবেশবিদ শরীফ জামিল বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। কার্বন বাণিজ্যের কথা বলছেন কিন্ত এর জন্য দীর্ঘ মেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি করা দরকার।
 
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদালয়, এপিই, সচেতন ফাউন্ডেশন, ব্রাইটার্স, ব্রাক সিথ্রিইআর, সিইজিআইএস, ক্যাপস, ডিআরডিএফ, ওয়াটার কিপার্স, ইউডো এবং ইপসা।
 
বিইউ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর