বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ঢাকা

কপাল পুড়ল শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক এপিএসের, প্রাথমিকের নিয়োগও বাতিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

S
শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক এপিএস ওমর ফারুক দেওয়ান

তথ্য অধিদফতরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার ওমর ফারুক দেওয়ানকে গত ১০ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

এর চার দিন পর গত ১৪ মে পদটিতে আরেকজনকে বসিয়ে ওমর ফারুককে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালকের (প্রশাসন) দায়িত্ব দেওয়া হয়। 


বিজ্ঞাপন


কিন্তু এখানেও থাকতে পারলেন না শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক কলাম লিখে আলোচনার জন্ম দেওয়া ওমর ফারুক। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ফারুক দেওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়ার পর এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে বদলি-তদবির বাণিজ্য, আওয়ামী সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। 

এরপরও প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ওমর ফারুককে নিয়োগ দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত লেখা প্রকাশ পায়। এরপরই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়।


বিজ্ঞাপন


Untitled-1_copy
পত্রিকায় শেখ মুজিবকে নিয়ে লেখা ওমর ফারুক দেওয়ানের দুটি কলাম

এর আগে গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ ওমর ফারুককে সরিয়ে মন্ত্রীর নতুন এপিএস দুলাল মিঞাকে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওইদিনই ওমর ফারুককে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়ন করা হয়।

পরে এই নিয়োগ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ জুলাই যোদ্ধারা। তারা বলেন, এই ধরনের আওয়ামী লীগের দোসরকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক-প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া বিএনপির জন্য বিপদ ডেকে আনবে।

জানা গেছে, ওমর ফারুক দেওয়ানের মূল পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তার ডজনখানেক কলাম পত্রিকায় ছাপা হয়। এছাড়া ফেসবুকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের নিয়ে নিয়মিত প্রশংসামূলক পোস্টও দিতেন তিনি।

এদিকে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক পদ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এহসানুল হক মিলন যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখন ওমর ফারুক তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন।

জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওমর ফারুক দেওয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং তদবির বাণিজ্যে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এপিএস পদ হারানোর পর ওমর ফারুক যে পদে নিয়োগ পান সেটি মূলত তৃতীয় গ্রেডের (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার)। অন্যদিকে তিনি  বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তা। নিয়মানুযায়ী একজন চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাকে তৃতীয় গ্রেডের পদে পদায়ন করা বিধিযোগ্য নয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিন একাধিকবার ফোন করা হলেও ওমর ফারুক দেওয়ানকে পাওয়া যায়নি।

বিইউ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর