বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা না নিয়ে জিডি করালো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা না নিয়ে জিডি করালো পুলিশ

চলন্ত রিকশার সামনে এক ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে গেলে তার শরীরে রিকশার চাকা লেগে যায়। এতে রিকশায় থাকা যাত্রীকে গালাগালি শুরু করেন ওই ব্যক্তি। এ সময় আশপাশে থাকা মুখোশ পরা আরও চারজন এসে যোগ দেয়। রিকশায় থাকা যাত্রীর দুই পাশে দুজন রিকশায় উঠে ধারালো ছুরি ধরে। কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, টাকা ও মানিব্যাগসহ সব। 

‎ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে সব হারিয়ে থানায় গেলে ভুক্তভোগীকে মোবাইল হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দেন ডিউটি অফিসার। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। ‎সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে মোহাম্মদপুর চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের এক নম্বর গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 
 
ছিনতাইয়ের শিকার যুবকের নাম সিদ্দিক শ্রেষ্ঠ। তিনি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দিনের আলোতে পথচারীদের সামনে প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। 


বিজ্ঞাপন


এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‎‎ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো মোহাম্মদপুর বাঁশ বাড়ি এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপ 'দে ধাক্কা' গ্রুপের মূলহোতা রাব্বি ওরফে ‘চৌদ্দ রাব্বি’ ও আগুন ওরফে ‘ধাক্কা আগুন’। তাদের নেতৃত্বে এ চক্রের সদস্যরা বাঁশবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড ও চাঁন মিয়া হাউজিং এবং শিয়া মসজিদ এলাকায় ছিনতাই করে।

প্রকাশ্যে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে একটা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চাঁন মিয়া হাউজিং ১ নম্বর গেইটের উল্টো পাশ দিয়ে আসছে। হঠাৎ কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি রিকশার সামনে গিয়ে চাকার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। মুহূর্তেই মুখোশ পরা এক যুবকসহ চারজন এগিয়ে আসে। মুখোশ পরা যুবক এসেই রিকশায় উঠে বসে এবং যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার পকেট থেকে সব হাতিয়ে নেয়। 

ভিডিওতে ৫টা ৩৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৩৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডের অংশে দেখা যায় যাত্রীর কাছ থেকে সব হাতিয়ে নেয়। এ সময় ভুক্তভোগী সিদ্দিকের মোবাইল ফোনটি লক খুলে নিয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীর বাবা নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, আমার ছেলে সিদ্দিক শ্রেষ্ঠ কোচিং শেষে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিল। এ সময় চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের ১ নম্বর গেইটের সামনে আসতেই তাকে কয়েকজন ঘিরে ধরে মোবাইল, মানিব্যাগ ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় গিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাকে মোবাইল হারানোর জিডি করতে বলে।

‎নূরে আলম বলেন, আমার ছেলে কলেজে এইএসসির শিক্ষার্থী। সে এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স মোবাইল, একটি দামি এয়ারবাডস, মানিব্যাগের ভিতর এনআইডি কার্ড ও ব্যাংকের এটিএম কার্ড ছিলো। 


বিজ্ঞাপন


‎এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে জিডির করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় আসার পর আমরা মামলা করতে বলছি। তিনি বললেন মামলা করবেন না, জিডি করবেন। তাই আমরা এ ঘটনায় একটা জিডি নিয়েছি।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। মালামাল উদ্ধারে আমরা কাজ করছি।
 
‎একেএস/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর