বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের গল্প রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি খোঁজ মিলল এমন এক গল্পের, যেখানে ধর্ম হার মেনেছে মানবতার কাছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম খাটরা। কয়েক মাস আগে সেখানে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হন শ্যাম বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। এক নিমিষেই ভেঙে পড়ে একটি পরিবার। স্বামী হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী। দুই ছোট সন্তান আপন আর বিনয়। ঘরে খাবার নেই, ভবিষ্যৎ অন্ধকার। চারদিকে শুধু হতাশা আর অনিশ্চয়তা।
ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন এক মানুষ। নিজ ধর্মের নয়, অন্য ধর্মের একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ান এক মুসলিম ব্যবসায়ী মো. পারভেজ শেখ। তিনি শুধু একবার সাহায্য করেই থেমে যাননি। নগদ অর্থ দিয়েছেন, মাসিক সহযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন। এমনকি শ্যাম বিশ্বাসের দুই সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। মুহূর্তেই তার এই মানবতার গল্প ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে।
পারভেজ শেখের মতে, ধর্মের আগে মানুষ হওয়া জরুরি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারলে সেই ধর্মের মূল্য কী?
তার এই কথাগুলো যেন আজকের সমাজের জন্য বড় একটি বার্তা। মানুষ মানুষের জন্য এই বাক্যটি আমরা অনেক বলি। কিন্তু খুব কম মানুষই সেটি কাজে প্রমাণ করতে পারে। পারভেজ শেখ সেই বিরল মানুষদের একজন।
এলাকাবাসী বলছেন, তার এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকে বাঁচায়নি, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বন্ধনকেও আরও শক্ত করেছে।
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো- পারভেজ শুধু এই পরিবার নয়, এলাকার মসজিদ, মাদরাসা আর এতিমখানাতেও নিয়মিত সহযোগিতা করেন।
হয়তো পৃথিবীটা এখনো সুন্দর আছে। কারণ কিছু মানুষ এখনো ধর্মের দেয়াল পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। মানবতা এখনো বেঁচে আছে। আর যতদিন পারভেজ শেখদের মতো মানুষ থাকবে, ততদিন এই সমাজে আশা কখনো হারিয়ে যাবে না।




