সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক মনিটরিং, মিলছে সুফল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

trafiq
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় করা হচ্ছে ট্রাফিক মনিটরিং। ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক মনিটরিংয়ে আটিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে ভালোই সুফল মিলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. সরওয়ার।

তিনি জানিয়েছেন, ‘‎ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। নতুন করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আরও ৩০ টি স্পটে এ প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে।’

‎সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিমানবন্দর ক্রসিং সৌর শক্তির ‘ট্রাফিক সিগনাল লাইট’ উদ্বোধনের সময় এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার।

‎তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে পূর্ণাঙ্গরূপে স্বয়ংক্রিয় মামলা চালু সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা খুব একটা করা লাগবে না। যেকোনো স্থানে ট্রাফিক আইন বা মোটর ট্রান্সপোর্ট আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা হয়ে যাবে।’

‎ডিএমপি কমিশনার জানান, ইতোমধ্যে ঢাকার ৩০টি পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সফটওয়ারের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা বা অটোমেটিক মামলা করা শুরু করেছে। এই সফটওয়্যারটি আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছে। সেই ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে আমাদের সঙ্গে বিআরটিএ ডাটাবেজের যে কানেক্টিভিটি আছে, সেই কানেক্টিভিটির ঠিকানা থেকে মালিকদের ঠিকানা নিয়ে সেসব ঠিকানায় প্রসিকিউশন চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বা মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী তারা জরিমানা পরিশোধ করবে। এছাড়া বিভিন্ন পয়েন্ট সিগন্যাল লাইটের পোলগুলোতে পর্যায়ক্রমে এআই বেজড সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।


বিজ্ঞাপন


IMG-20260511-WA0017
বিমানবন্দর ক্রসিং সৌর শক্তির ‘ট্রাফিক সিগনাল লাইট’ উদ্বোধনকালে কথা বলছেন ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়তো এক হাজার মামলা হবে। সিটি করপোরেশন গত কয়েক মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে। এছাড়া গুলশান-১ নম্বরে আগে থেকেই ছিল, আর গুলশান-২ নম্বরেও সিটি করপোরেশন সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।’

তিনি জানান, ‎এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করছে, যা কয়েকদিনের মধ্যে চালু হবে। এর বাইরে ১৫টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে ডিএমপি।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২০২২ সাল থেকে অনেকেই ট্রাফিক ফাইন পরিশোধ করছিল না। এমন প্রায় ১ লাখ মামলা পুলিশের কাছে পড়ে ছিল। ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ৩৮ হাজার এমন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। সড়কে গতি আনতে ইতোমধ্যে ঢাকার প্রায় ৭০টি স্থানের কোথাও ইউটার্ন কাটিয়ে, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় গতিবেগ ছিল ৫ কিলোমিটারের নিচে। কিন্তু ২৫-২৬ সালে আমরা মনে করি ঢাকায় মহানগরের গাড়ির গড় গতিবেগ এখন ১০ কিলোমিটারের উপরে হয়ে গেছে। পাশাপাশি অ্যালিভেডেট এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা বসিয়ে মামলা করার ফলে ‘ওভার স্পিড কমেছে’। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতেও ক্যামেরা বসিয়ে ‘ডিজিটালি কন্ট্রোল’ করা হবে।

‎রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করে রাস্তাঘাট উন্নয়নের চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সময় ডিপিডিসি, ডেসা তার সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা রাস্তা কাটে। এটাও আমরা সমন্বয় করছি।’

তিনি বলেন, এর ফলে দেখবেন যে, গত এক বছর রাস্তায় কাটাকাটির ফলে ট্রাফিক জ্যাম খুব একটা চোখে পড়ে না। তারপর যেখানে প্রয়োজন সেখানে কাটবে। তবে সমন্বয় করে কাটবে। বাইপাস রোড করে কাটবে।’

‎একেএস/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর