প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রীর দফতরে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
তিনি বাংলাদেশে একটি এআই ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, সেখানে তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের অংশ হয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, বাংলাদেশ সব সময় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, গত তিন থেকে চার দশক ধরে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ৮ মিলিয়নের বেশি মোবাইল ডিভাইস বাজারজাত হচ্ছে। জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, জাতীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়নেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্স ২০২৭ (ডব্লিউআরসি-২৭) সাংহাইয়ে আয়োজন এবং আইটিইউ কাউন্সিল ও রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডে চীনের প্রার্থিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, দূতাবাসের তৃতীয় সচিব ঝাং পেংফেই, বাই ঝাওশি, হুয়াওয়ের মা বেন এবং জেডটিইর মাও ইয়ংজুন উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এমআই



