প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে গেলে ‘ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দেওয়া’ হয়। ঋণ চাইতে গেলে নানা নিয়ম দেখানো হয়। প্রবাসী পরিচয় দিলেও বসতে দেওয়া হয় না।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী ভবনে এক সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলেছেন মুন্সিগঞ্জের প্রবাসী রোকসানা।
বিজ্ঞাপন
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত ‘অভিবাসী সম্মেলনে’ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোকসানা বলেন, ‘বিদেশ গিয়ে সফল হতে পারিনি। ফেরত আসার পর তিন মেয়েকে নিয়ে কাজ করে খাই। কাজ করে খেতে গেলে টাকা লাগে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে ঋণ দেওয়া হয় জেনে সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়েই তারা ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।’
রোকসানা জানান, তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাকে জানান যে তিনি বিদেশফেরত, তাকে একটু বসতে দিন। জবাবে কর্মকর্তা বলেন, ‘বসার কোনো দরকার নাই। ওই দেয়ালে যান, কাগজ লেখা আছে। ওই কাগজ থেকে ছবি তুলে নেন। নিয়মকানুন অনুযায়ী আসতে পারলে ঋণ দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাগজে দেখলাম চাকরির সনদ, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আর দোকানে বসিয়ে ছবি তুলে আনতে হবে। আমার জন্য কি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দেবে? জামিনদার হবে? প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে গেলেই ঋণ দেওয়া হবে বলে আশা কেন দেওয়া হয়?’
বিজ্ঞাপন
রোকসানা আরও বলেন, ‘আমাদের হয়রানি না করে যেন আমরা ঋণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। কোনো নারী যেন ব্যাংকে গেলে হয়রানি না হন। সরকারের কাছে অনুরোধ, নারীরা যেন ঋণ পান। কাউকে হয়রানি করবেন না।’
সম্মেলনে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রবাসীরা গেলে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ঋণ দেওয়া হয়। আপনার যদি ট্রেড লাইসেন্স না থাকে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকে তাহলে তো ঋণ দিতে পারব না।’
ওই নারীর বক্তব্য শোনার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী ব্যাংক কর্মকর্তাকে কর্মীদের আচরণে ট্রেনিং দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের ডিজিকে বলব, ম্যানেজারদের কাস্টমার সার্ভিসের আচরণসংক্রান্ত ট্রেনিং দিন। তবে সবাই খারাপ আচরণ করে না, কেউ কেউ করে। যারা করেন, তাদের চিহ্নিত করে সরিয়ে দিন।’
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু। এ ছাড়া বিএমইটির অতিরিক্ত ডিজি আশরাফ হোসেন, হেলভেটাসের প্রতিনিধি প্রেমাংশু, ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক ও চেয়ারম্যান শাকিল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এমআইকে/এমআই




