সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

বেবিচকের এভসেক বিভাগের উদ্যোগে নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

বেবিচকের এভসেক বিভাগের উদ্যোগে নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালার বিষয় ছিল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য তৈরি একটি বিস্তৃত গাইডলাইন এবং আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও)-এর একটি বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।


বিজ্ঞাপন


বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় দেশের আটটি বিমানবন্দরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি সংক্রান্ত রেগুলেটরি প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সম্যক ধারণা প্রদান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (চিফ এভসেক ইন্সপেক্টর) এবং আইকাও অডিটর ও সার্টিফায়েড ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীর।

এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খান শাহীনুল বারি, সহকারী পরিচালক (এভসেক পলিসি) আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ, সহকারী পরিচালক (এভসেক ট্রেনিং) শারমিন খানম এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।


বিজ্ঞাপন


কর্মশালায় ক্যাব-এর প্রণীত মডেল এএসপি চেকলিস্টের বিভিন্ন ধাপ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোগ্রাম প্রণয়ন, হালনাগাদ ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। মোট ৪০ জন কর্মকর্তা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (এনসিএএসপি) অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরের জন্য লিখিত এএসপি প্রণয়ন এবং তা বেবিচক কর্তৃক অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ প্রেক্ষাপটে বেবিচকের এভসেক বিভাগের এ উদ্যোগ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এএসপি প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদের মাধ্যমে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় বিধি অনুসরণ এবং আসন্ন আইকাও অডিটে কমপ্লায়েন্স অর্জন সহজতর হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বিমান নিরাপত্তা বিষয়ক অডিট পরিচালনা করবে। ২০১৮ সালের সর্বশেষ অডিটের পর আইকাও-এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে আসন্ন এই অডিট বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। আয়োজকরা জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত আকাশপথ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫, ৬ ও ৭ এপ্রিল বেবিচকের এভসেক বিভাগ বাংলাদেশে পরিচালনাকারী ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৬৫ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে সম্পূরক স্টেশন কার্যপ্রণালী বা অতিরিক্ত স্টেশন পরিচালনা পদ্ধতি প্রস্তুত বিষয়ক তিনটি কর্মশালা আয়োজন করে।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর