মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সহজ ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও দৃঢ় হবে।
দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক দেশি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কীটনাশক ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মুক্তা চাষসহ বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি চিংড়ির পোনা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে আমদানির ক্ষেত্রে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ডিসিরা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়েছেন, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলেদের সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এআর




