রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে অপরহরণ করা হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে অপহরণের শিকার আরও তিন ভুক্তভোগীকে খুঁজে পায় পুলিশ। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের শিকার ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অপহরণের শিকার উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা হলেন সোহেল, সেলিম, সাইফুল ও আলী আহমেদ।
এ সময় গ্রেফতার হওয়া অপহরণ চক্রের দুই সদস্য হলেন- মিজানুর রহমান রিপন ও আল ওয়াজেদ ফয়সাল।
ভুক্তভোগী আলী আহমেদের ছেলে আলাউদ্দীন ফরিদ বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে ডিবি পরিচয়ে ফোন করে আমার বাবাকে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। পরে একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিলা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর আমার বাবার মোবাইল ফোন থেকে আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আমরা প্রথমে ২০ হাজার টাকা পাঠাই। অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। পরে রাত ২টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।
আরেক ভুক্তভোগীর ভাই শামীম বলেন, আমার ভাই সেলিম ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে মাছ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাকে মারধর করে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ২০ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
হঠাৎ কেন আলোচনায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’
আরেক ভুক্তভোগীর ভাই ইউসুফ বলেন, তার বড় ভাই সাইফুলকে বেড়িবাঁধের ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় ভোর ৬টায়। এরপর বিভিন্ন নম্বর থেকে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করা হয়। থানায় অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সোমবার বিকেলে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, মোহাম্মদপুর নবীনগর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে মাছ ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়রি করে। এ ঘটনার সূত্র ধরে রাতভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় আমরা চারজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। এ সময় অপহরণ চক্রের দুই সদস্য চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে বাড্ডা ও গাজীপুর এলাকা থেকে চারজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একেএস/জেবি




