বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা দক্ষিণে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু, লাগবে না চাঁদা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাকা দক্ষিণে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু, লাগবে না চাঁদা
নগর ভবনে অনুষ্ঠানে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম। ছবি: ঢাকা মেইল

ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার মধ্য দিয়ে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

করপোরেশন বলছে, প্রস্তাবিত ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা-২০২৬-এর আওতায় নিবন্ধনের মাধ্যমে হকার পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে হকারদের আর কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। তবে সিটি করপোরেশনকে ফি দিতে হবে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আজ হকারদের কার্ড দেওয়া শুরু হলো। এখন থেকে পর্যায়ক্রমে সব এলাকার হকারদের নিবন্ধনের আওতায় এনে কার্ড দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কার্ড ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবসা করা যাবে না। এমনকি যারা ফুচকার দোকান দেন, তাঁদেরও নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে।

প্রশাসক বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য হকারদের আমরা জায়গা নির্ধারণ করে দেব। সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। কোথাও দুপুরের পর বসবে, কোথাও রাতে বসবে। আবার কোথাও সারাদিনই ব্যবসা করতে পারবে।


বিজ্ঞাপন


হকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যে জায়গা দেব, সেটি আপনাদের হেফাজত করতে হবে। আপনাদের আর কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আপনাদের সহায়তা করবে।

পুনর্বাসনের পর সরকার ও সিটি করপোরেশনের সব বিধিবিধান মেনে এবং বরাদ্দ করা জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য হকারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

1

আবদুস সালাম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় আমরা আজ ঢাকা শহরে হকার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছি। এর ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ ও পথচারীবান্ধব ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে হকার নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হবে।

এই উদ্যোগকে মানবিক ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে এই ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, হকারদের কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সব হকারকে এ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাঁদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, হকার বসার পরও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে রমনা ভবনসংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা হয়।

2

হকার পুনর্বাসনে ৭ স্থান নির্ধারণ

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি জানায়, প্রাথমিকভাবে ৭টি স্থান চিহ্নিত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানগুলো হলো—গুলিস্তানে রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠে সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা), মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে ও আশপাশের এলাকায় সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা), রাজউক ভবনের পেছনে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলিতে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেটসংলগ্ন লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন এক পাশে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট এবং শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে মাঠসংলগ্ন সড়কে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট।

ডিএসসিসি বলছে, খেলার মাঠ, স্কুল মাঠ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। এ ছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী বা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ হকারদের যেকোনো সময় উচ্ছেদের পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। পাশাপাশি হকারদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর তদারকি করবে।

এএম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর