তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিএনপি জাতীয় সংকটে বারবার সমাধানমূলক নেতৃত্ব দিয়েছে এবং অতীতের শাসকরা রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করলেও বিএনপি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক ধারা, সাংবিধানিক কাঠামো ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করেছে। আজকের সংসদ তারই প্রমাণ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিজ্ঞাপন
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক সমাধান চায়।
বর্তমান সংসদকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় বাস্তবতার প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ অতীতের ১২টি সংসদের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময়। ভোটের আচরণ ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দলটি বিভিন্ন সংকটে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৮২ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন এক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে দেশের ওপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের দৈনিক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা থেকে ১০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিশ্ব পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব ফেলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সংসদে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংসদকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেট প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
তথ্যমন্ত্রী বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের প্রতি গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নে ঐক্য প্রয়োজন এবং সংসদের ভেতরে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও আদর্শিক অবস্থান তাদের আচরণে প্রভাব ফেলে এবং সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে আদর্শিক বিতর্ক বিদ্যমান। তিনি দাবি করেন, এই বিতর্কের মূল কারণ আদর্শগত পার্থক্য।
তিনি বলেন, ধর্ম, স্বাধীনতার চেতনা বা আন্দোলনের ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব বিষয় রাজনৈতিক আচরণে প্রভাব ফেলছে।
তিনি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং সংসদ পরিচালনার জন্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
/এএস




