বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গরুর হাটের দ্বন্দ্বে টিটন হত্যা, নিউমার্কেট থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

গরুর হাটের দ্বন্দ্বে টিটন হত্যা, নিউমার্কেট থানায় মামলা
শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। তিনি বলেন, আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে টিটনের বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় রিপন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় মামলাটি করা হয়।


বিজ্ঞাপন


নিহত টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বলেন, ‘জামিন পাওয়ার পর টিটন দুবার যশোরে গিয়েছিল। এর মধ্যে একবার ঈদের সময় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বসিলার গরুর হাট নিয়ে বিরোধের কথা সামান্য বলেছিল। তাদের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। পরে বলেছিল, না বড় ভাই, ঠিক হয়ে যাবে, অসুবিধা নাই, দোয়া কইরেন, এটুকুই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে সব জানানো হয়েছে। আমি চাই ন্যায়বিচার হোক। সবার কাছে অনুরোধ, যেন আমরা ন্যায়বিচার পাই। আমি হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের মরদেহ নেব। এরপর যশোরে যেতে হবে। সেখানে দাফন করা হবে।’

ইমনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রিপন বলেন, ‘ইমনের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। ছোটখাটো ঘটনা ভাইবোনের মধ্যে থাকতেই পারে। এটা হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ের কোনো বিরোধ না বলে আমি মনে করি। কারণ, ইমন আমার মায়েরও যত্ন করত। আমার দৃষ্টিতে সে ভালো ছেলে।’

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, টিটন হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তাঁর নাম ছিল ২ নম্বরে। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্তঃকোন্দলের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে

এ বিষয়ে গতকাল রাতে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি জামিনে বের হন। বর্তমানে তিনি জামিনে থাকলেও আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ভাইয়ের মরদেহ বুঝে নিয়েছেন রিপন। তিনি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৭।

একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর