ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারানো কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সেই পরিবারগুলো অবশেষে ফিরে পাচ্ছে তাদের ঠিকানা। ‘ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভুক্তভোগী মায়ের কান্না’ শীর্ষক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও দৃষ্টিগোচর হয়।
মানবিক বিবেচনায় তাৎক্ষণিক নির্দেশের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে তারেক রহমানের সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় নেতারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা হবে।
এসময় হামলায় গুরুতর আহত ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহিদুল হাসান মাসুমকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল হুদা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারেক রহমানের নির্দেশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সবসময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মোস্তাকিম বিল্লাহ, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিশা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে একদল দুর্বৃত্ত নারকীয় অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে কৃষক মিলনসহ অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিইউ/ক.ম




