সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কৃষক-জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

কৃষক-জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার
হাওড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় একাধিক উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

হাওড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে কৃষক ও জেলেদের সুরক্ষায় একাধিক উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইরেন স্থাপন, তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব কথা জানান তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদের আনা “আকস্মিক বজ্রপাত জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় সঠিক গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ” বিষয়টি উত্থাপন করেন। 


বিজ্ঞাপন


সংসদ সদস্য জানান, তার আসনের চারটি উপজেলায় হাওড় বিস্তৃত থাকায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সারা বছর সেখানে কাজ করেন। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তার এলাকায় চারজন রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য তুলে ধরে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকায় বজ্রপাতের ঘনত্ব বেশি-প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত ঘটে। যদিও বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তবে এখনো দৃশ্যমান কার্যকর কর্মসূচি, সঠিক পরিসংখ্যান, পর্যাপ্ত বজ্রনিরোধক যন্ত্র বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।


বিজ্ঞাপন


এ প্রেক্ষিতে হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। 

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, বিশেষ করে হাওড় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।

বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইরেন স্থাপনের পরিকল্পনা, যাতে কৃষকরা আগেভাগে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি  চালু রয়েছে, এছাড়া বজ্রপাত নিরোধে বিভিন্ন স্থানে টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এসব পদক্ষেপ আরও জোরদার করে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।

এমএইচএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর