সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে লুট: পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে লুট: পিবিআই
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার বিলকিস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বাসায় কাজ নিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনায় এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতার হওয়া ওই নারীর নাম বিলকিস বেগম। তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২৬ এপ্রিল) পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ তথ্য জানান।

পিবিআই জানায়, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. ইবনুল আলম পলাশের বাসায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী গৃহকর্মীর কাজ নেন। পরদিন এনআইডি দেওয়ার কথা বলে কাজে যোগ দেন তিনি। একপর্যায়ে বাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রী বাইরে গেলে ওই গৃহকর্মী বাসায় থাকা বৃদ্ধা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁর হাতে থাকা স্বর্ণালংকার ও বাসায় থাকা নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।

ঘটনার পর রওশনারা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করা হলেও দীর্ঘদিনেও আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি থানা-পুলিশ। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

তদন্তের একপর্যায়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম এলাকায় একই কৌশলে আরেকটি চুরি ও ভুক্তভোগীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। দুটি ঘটনার কৌশলগত মিল বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে বিলকিস বেগমকে শনাক্ত করে পিবিআই। পরে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বিলকিস বেগম দুই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিলকিস বেগম গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসায় কাজ নিতেন। সুযোগ বুঝে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভুক্তভোগীদের অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করতেন। চুরি করা স্বর্ণালংকার তিনি গাজীপুরে পরিচিত এক নারীর মাধ্যমে বিক্রি করতেন।

পিবিআই বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর