সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা বাতিলের জন্য ‘সংসদ সদস্য পারিতোষিক ও ভাতাদি সংশোধন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সেটি পাস হয়।
বিজ্ঞাপন
এসময় বিলটি উত্থাপনের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে।
তিনি বলেন, এই প্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত সুবিধা বাতিল করার জন্য The Members of Parliament (Remuneration and Allowances) Order, 1973 (P.O. No. 28 of 1973) এর Article 3C বিলুপ্তির উদ্দেশে এই বিলটি পেশ করা হলো।
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য ভোটে দেন। তখন উপস্থিত সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির দীর্ঘদিনের সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) আদেশ ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত এ অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে এবং সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এবার সিদ্ধান্তটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হলো। গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে।
এর আগে সংসদ সদস্যরা ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’-এর অধীনে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা পেতেন, যা এখন তুলে নেওয়া হলো।
এমএইচএইচ/এএইচ




