শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি তরুণদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

C

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ডর্‌প টোব্যাকো-ফ্রি ইয়ুথ-এর সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।  

সিগারেটের সহজ প্রাপ্যতা কমাতে এবং তামাকের ক্ষতি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানায় তরুণরা।


বিজ্ঞাপন


মানববন্ধনে তরুণরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। এই অকাল মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে তামাকপণ্যকে তরুণদের নাগালের বা ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আর এটা করতে হলে কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়াতে হবে।

বিইউপি শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, বাংলাদেশে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা, অপরদিকে তামাক থেকে রাজস্ব প্রাপ্তি মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (জর্দা, গুল, সাদাপাতা) অন্তর্ভুক্ত করলে এই আর্থিক ক্ষতি আরও অনেক বাড়বে। এই ক্ষতি কমাতে তামাকখাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকপণ্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে, যা তামাক ব্যবহার হ্রাসে কোনো কার্যকর প্রভাব ফেলছে না। তাই কার্যকরভাবে দাম বৃদ্ধি না করলে তামাকপণ্য তরুণদের নাগালের মধ্যেই থেকে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।

সরকারকে তামাকের ভয়াবহ করাল গ্রাস থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা বলেন, সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামোর কারণেও সিগারেট সস্তা ও সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে, যা তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। 


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

বিইউ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর