রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মেসেঞ্জারে কথিত প্রেমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক সহকর্মীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সাব্বির। নিহতের নাম ইয়াকুব। তারা দুজনই মেটাডোর গ্রুপের একটি কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্লেড ও রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ইয়াকুব ও সাব্বির—দুজনই ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি নারী আইডির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ওই আইডির সঙ্গে তাদের প্রেমের সম্পর্কও গড়ে ওঠে। তবে বাস্তবে ওই নারীর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
একপর্যায়ে ইয়াকুবের মোবাইলে ওই নারীর ছবি ও কথোপকথন দেখে সন্দেহ করেন সাব্বির। এ নিয়ে দুই সহকর্মীর মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাব্বির ধারালো ব্লেড দিয়ে ইয়াকুবের গলা কেটে দেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
ঘটনার পর ইয়াকুবকে শ্রমিক হোস্টেলের টয়লেট থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
মেটাডোর কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক বজলুর রহমান বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমরা টয়লেট থেকে ইয়াকুবকে উদ্ধার করি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে শুরুতে কিছু জানা যায়নি।
নিহতের বড় ভাই রিয়াদ বলেন, রাতে ফোন পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই। কারা এবং কেন তাকে হত্যা করেছে, তা আমরা জানি না। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারালো ব্লেড দিয়ে কণ্ঠনালি কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইয়াকুবের মৃত্যু হয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডটি মূলত কথিত প্রেমিকাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একেএস/এআর




