যশোরের আকাশ-বাতাসে এখন নতুন স্বপ্নের গুঞ্জন। আগামী ২৭ এপ্রিল (সোমবার) এই প্রাচীন জনপদে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম যশোর সফর। দীর্ঘদিনের অবহেলিত দাবিগুলো পূরণ হবে—এমনই এক গভীর প্রত্যাশায় বুক বাঁধছে জেলাবাসী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন স্মারকলিপি এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
সফরের শুরুতে শার্শার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় বড় ধরনের উন্নয়ন ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেনাপোল-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালু, যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ৬ লেন করা, যশোরে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, যশোর জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন এবং যশোর বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও একটি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে সম্প্রতি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করছে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) ও জাতীয় তরুণ সংঘ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধনে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ৬ লেন, যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, যশোরকে পর্যটন নগরী ঘোষণা, বসুন্দিয়াকে ইপিজেড থানা ঘোষণা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং আধুনিক শিশু পার্ক স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ যশোর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মুরাদ বলেন, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যশোর উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে। এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২২টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবিতে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর শাখাও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা বলেন, যশোর কৃষি ও যোগাযোগ খাতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা এবং নতুন রেলপথ চালুর দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরে উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।




