মাস্তুল ফাউন্ডেশন অপতথ্যের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের নামে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচারের ন্যুনতম কোনো ধরনের ভিত্তি নেই। মিথ্যা তথ্য প্রচার করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম। ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং চলমান মানবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, হেড অব লিয়াজু মোহাম্মদ সোহেল ও শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম।
আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি মাস্তুল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং যথাযথ তথ্যসূত্রবিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠান অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কার্যক্রম সরকারি বিধিমালা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আইন মেনে পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর নিয়মিত অডিট রিপোর্ট শেয়ার করছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বিশেষ এসআরও সনদ প্রাপ্ত হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত যে কোনো দান বা যাকাত দাতার জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মানবিক কাজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি কর্তৃক নিবন্ধিত
আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রম কোনো অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এমআরএ (সনদ নং: ২০২১০০১৪৮৩) থেকে নিবন্ধিত এবং তাদের কঠোর নিয়মাবলীর অধীনে পরিচালিত। প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণহীন সমাজ গড়তে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো 'কর্জে-এ-হাসানা' বা সুদমুক্ত ঋণ।
এর মাধ্যমে অসচ্ছল ও পরিশ্রমী মানুষদের ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। সাময়িক সহায়তা নয়, বরং মানুষকে কর্মক্ষম করে দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্য বিমোচনই মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য।
স্বতন্ত্র আর্থিক কাঠামো
এ বিষয়ে তিনি বলেন, যাকাত তহবিল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কার্যক্রম-এই দুটির প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো সম্পূর্ণ পৃথক। যাকাতের অর্থ শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়, অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুটি ফান্ডের মধ্যে কোনো অর্থ মিশ্রণের সুযোগ নেই। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের যাকাত তহবিল এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স কার্যক্রম দুটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোতে পরিচালিত হয়। যাকাতের অর্থ কেবল শরীয়াহ নির্ধারিত খাতে (এতিমখানা, মাদ্রসা, বৃদ্ধাশ্রম, মেহমানখানা, যাকাত স্বাবলম্বী প্রকল্পে) ব্যয় হয়।
অডিটে স্বচ্ছতার বিষয়ে আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর স্বনামধন্য নিরপেক্ষ অডিট ফার্ম দ্বারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। বাৎসরিক অডিট সকল দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্যদের সাথে শেয়ার করা হয়। এবং অডিট রিপোর্ট গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ফিলিস্তিনে গাজায় ও সুদানে প্রেরিত মানবিক সহায়তার প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা বিদ্যমান সরকারের সকল বিধি ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমরা সকল তথ্য অবহিত করেছি। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দূতাবাস থেকে আমানের কাছে অফিসিয়াল খানি রিসিট সংরক্ষিত আছে।
পরিচালনা পর্ষদ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিচালনা পরিষদ 'রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কর্তৃক সোসাইটিতে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত। জয়েন্ট স্টকে জমা দেওয়া আমাদের নিবন্ধিত নদিপত্রে পর্যদের সকল সদস্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাদের পদবী এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
আইনগতভাবে যোগ্য যে কেউ পর্ষদে থাকতে পারেন। যদি পর্ষদ গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত হয়, তবে তাকে 'ফ্যামিলি ডমিন্যান্স' হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনত ভিত্তিহীন। পর্ষদে থাকা প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এবং সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এসএইচ/এআরএম




