ব্যবসার পাওনা টাকা চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অজ্ঞাতনামা এ মরদেহ শনাক্তের পর আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) পিবিআইয়ের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি যশোরের অভয়নগর থানার পোতপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের সন্তান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট খুলনার লবণচরা থানার পুটিমারি দশগেট সাকিন ‘ম্যাক শিপিং’-এর খালি জায়গার পশ্চিম পার্শ্বে কাজীবাছা নদীর কিনারায় আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সি একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ পেয়ে পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা করে। কিন্তু মরদেহটি অতিমাত্রায় পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভাব হয়নি।
এ ঘটনায় রুপসা নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রুপসা নৌ-পুলিশ ডিএনএ পরক্ষীর মাধ্যমে উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার শেরে-ই-বাংলা রোডে কবির হোসেনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে দ্বীন ইসলাম শেখকে গ্রেফতার করে।
বিজ্ঞাপন
দ্বীন ইসলাম যশোরের অভয়নগর থানার পাইকপাড়ার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, এ ঘটনার তদন্তে এবং আসামি দ্বীন ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, পলাতক মূল আসামি রুবেলের (ছদ্দনাম) সঙ্গে ভুক্তভোগী একসঙ্গে কাঠের ব্যবসা করতো। ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের রুবেলের কাছে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল।
সেই পাওনা টাকা চাওয়ায় পলাতক আসামি রুবেলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে আসামি রুবেল (ছদ্দনাম) ভুক্তভোগীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের আগস্ট মাসের ১৪/১৫ তারিখে পলাতক আসামি রুবেল এবং সৌখিন গ্রেফতারকৃত আসামি দ্বীন ইসলামের কাছে আসে। এরপর ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তার নৌকা দিয়ে বস্তাবন্দি হিন্দুদের একটি দামি মূর্তি লোকজনের আড়ালে নদী পার করে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে এবং ঘটনার দিন গত বছরের ২০ আগস্ট রাতে নৌকা নিয়ে তাকে ভাটপাড়া ঘাটে আসতে বলে। কথা মতো আসামি দ্বীন ইসলাম নৌকা নিয়ে ভাটপাড়া ঘাটে আসে এবং নদীর কিনারা থেকে ১৫-২০টি ইট নৌকায় তুলে নিয়ে পলাতক আসামি রুবেল, সৌখন ও গ্রেফতারকৃত আসামি দ্বীন ইসলাম বিভাগদী শ্মশানঘাট বাগানের পাশে যায়। ওই সময় আসামি সৌখিন ও পলাতক আসামি রুবেল নৌকা থেকে নেমে যায় এবং কিছুক্ষণ পরে তারা বস্তাবন্দি ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের মরদেহ নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তারা নৌকায় করে মরদেহটি ভৈরব নদীর মাঝখানে নিয়ে বস্তার মধ্যে কয়েকটি ইট ডুকিয়ে মরদেহটি পানিতে ফেলে দেয় এবং বিষয়টি তারা গোপন রাখতে বলে।
পলাতক মূল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।
একেএস/এএইচ



