বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

২৭ বছর পর মালয়েশিয়ার জঙ্গল থেকে দেশে ফিরলেন নিখোঁজ আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

Airport
বাতিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান আমির হোসেন তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৭ বছর কোনো খোঁজ ছিল না প্রবাসী আমির হোসেন তালুকদার (৬২)-এর। জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন, তবে বৈধ হতে না পারায় জঙ্গলেই কাটিয়েছেন এত দীর্ঘ সময়। অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বাতিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান আমির হোসেন। এ সময় বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে গ্রহণ করেন।


বিজ্ঞাপন


আমির হোসেনের ছেলে বাবু তালুকদার জানান, তার বাবা মালয়েশিয়ায় রংয়ের কাজ করতেন। শুরুতে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং কিছু অর্থও পাঠিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিল। প্রায় ৩০ বছর পর বাবাকে ফিরে পেয়ে ছেলে বাবু তালুকদারসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ব্র্যাক তাকে শরীয়তপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আমির হোসেনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্র্যাক।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে ব্র্যাক জানায়, ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। প্রবাস জীবনের শুরুতে প্রথম তিন বছর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তী ২৭ বছর তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো তিনি আর বেঁচে নেই।

ব্র্যাক জানায়, সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটি ছোট টিনের ঘরে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেখতে পান। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং পেনাংপ্রবাসী দীপুর প্রচেষ্টায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। তারা ব্র্যাককেও বিষয়টি জানান। দেশে থাকা আমিরের পরিবার তখন তাকে শনাক্ত করে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।


বিজ্ঞাপন


ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, ‘৩০ বছর ধরে প্রবাসে থাকা এবং পরিবারের সঙ্গে ২৭ বছর যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এমন একজনকে খুঁজে পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।’

এমআইকে/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর