নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেন (৩৫) নিখোঁজ হওয়ার এক বছরেও সন্ধান মেলেনি। ফলে পরিবারটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তার স্ত্রী আশঙ্কা করেছেন, তার স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। র্যাব বা পিবিআইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তার স্বামীকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এদিকে স্বামী নিখোঁজ থাকায় তিন সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাবেদের স্ত্রী শারমিন আক্তার রূপা।
বিজ্ঞাপন
রূপা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে লাশ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুরো ঘটনাটি ঘিরে রহস্য ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ বিকেলে ৯ নম্বর দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদ আলমের নেতৃত্বে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে জাবেদ হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় ১০ নম্বর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আবিরপাড়ার আশরাফ আহমেদ, ঘাসেরখিল গ্রামের হাবিবুর রহমান কিরণ, শিক বাবু, আনোয়ার হোসেন, সাতঘরিয়া গ্রামের মো. রাজু এবং শিবপুর গ্রামের ওসমান গণি সাগর তার বাড়ির পাশে থাকা ইটভাটায় আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তারা তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে ইটভাটা তাদের বুঝিয়ে দিতে বলে। তারা বলতে থাকে—“তুই যদি ইটভাটা লিখে না দিস, তাহলে তোকে ইটভাটায় পুড়িয়ে মারা হবে।” পরে তিনি বাড়িতে এলে আবারও মোবাইলে একই ধরনের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন তার স্বামী বাসা থেকে বের হলে সন্ত্রাসী রাশেদ ও আশরাফের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা তাকে হত্যা করে নাহারখিল ইটভাটায় তাঁর লাশ পুড়িয়ে ফেলে—যা পরবর্তীতে তিনি লোকমুখে জানতে পারেন। বিষয়টি থানায় জানালেও পুলিশ তা গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি আরও জানান, তার স্বামীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরদিন সেই সন্ত্রাসীরা তার বাসায় এসে হুমকি দিয়ে বলে—এই কথা কাউকে জানালে তাকেও এবং তার সন্তানদেরও হত্যা করা হবে। এ ঘটনার পর জাবেদের স্ত্রী আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার কপি থানায় দিলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ অবস্থায় তিনি তার তিন সন্তান নিয়ে ফেরারি জীবনযাপন করছেন বলেও জানান।
বিজ্ঞাপন
জাবেদের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীর হত্যাকারীরা সোনাইমুড়ী ও চাটখিল এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেও ভয় পায়। ফলে পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তার স্বামীর সঙ্গে থাকা সোহাগ নামের এক যুবকও তাদের ভয়ে পলাতক রয়েছে।
এমআইকে/এএস




