মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মাদক ব্যবসায়ী একই পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদক ব্যবসায়ী একই পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
মাদক ব্যবসায়ী একই পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা সিআইডির।

‎একই পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ‎‎সোমবার (২০ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায়।

‎‎মামলায় অভিযুক্তরা হলো- কামাল উদ্দিন,জাহানারা বেগম, মানিক মিয়া,আব্দুল আওয়াল,আসমা, রেশমা খাতুন ও লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার।


বিজ্ঞাপন


‎‎সিআইডি জানায়,একই পরিবারের বাবা, ৩ মেয়ে, ২ জামাই এবং ১ পুত্রবধূসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। এই পারিবারিক চক্রটি অবৈধ মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করে মর্মে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে  ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা নিজেদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করেছে মর্মেও অনুসন্ধানে জানা যায়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

‎‎অভিযুক্ত আসমার বিরুদ্ধে ৩টি, রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার এর বিরুদ্ধে ৭টি, মো. মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও এক বা একাধিক বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

‎সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, আসমা, রেশমা খাতুন এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার নামীয় সহোদরা ৩ বোন গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্য পিতা আব্দুল আওয়াল, আসমার স্বামী মো. মানিক মিয়া, লিজা বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিন এবং তাদের সহোদর ভাইয়ের স্ত্রী জাহানারা বেগম (ভাবি) সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে। পারিবারিকভাবে চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তাদের ৩ বোনের বিভিন্ন জেলাতে বিয়ে হয় এবং সকলে স্বামী সন্তান ও পিতা-মাতাসহ সকলকে নিয়ে গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করে।

অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে অবৈধ মাদকদ্রব্য এনে নিজেরা অথবা স্থানীয় বহনকারীদের মাধ্যমে গাজীপুর জেলাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রয় করত। স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করত। অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ তাদের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সমূহে লেনদেন করে মর্মে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে।


বিজ্ঞাপন


‎অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, অভিযুক্তদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং করেছে। প্রাথমিকভাবে ৭৯ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ দিয়ে মাদক ক্রয় এবং নিজেদের ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে মর্মেও অনুসন্ধানে উঠে আসে।

‎সিআইডি আরও জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

‎একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর