সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে কর কাঠামো সংস্কারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ঠ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের মূল্যস্তর হ্রাস, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

‎সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের বর্তমান চারটি মূল্যস্তরকে কমিয়ে তিনটিতে আনার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবনানুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ করা, উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকার দাম ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

‎এছাড়া বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকায় ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বিড়ির ক্ষেত্রে ২০ শলাকার দাম ৩০ টাকা এবং জর্দা-গুলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

‎তামাক কর ও মূল্য বিষয়ক প্রস্তাব সমর্থন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, তামাক কর কাঠামো সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন করলে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ অনেক বেশি সহজ ও নিশ্চিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, তামাকের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা পাবে এবং তামাকজনিত চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে। 


বিজ্ঞাপন


সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুলায়মান বলেন, তামাক খাত থেকে বর্তমানে যে রাজস্ব আসে, তার চেয়ে তামাকজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ। প্রজ্ঞার প্রস্তাবিত কর কাঠামো গ্রহণ করলে রাজস্ব আয় ৮৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এলেও এর বিপরীতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন করলে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং পৌনে ৪ লক্ষ তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।

‎আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার। 

এসময় আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন মো. মনির হোসেন লিটনসহ তামাকবিরোধী নেতারা।

‎একেএস/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর