চাকরি হারিয়ে তা স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) কর্মীরা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন শুরু করেন তারা, যা সোমবারও (২০ এপ্রিল) অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর দেশের ৬১ জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রায় ৪ হাজার ২০০ জনকে এলএসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের অবগতিতে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করার পর গত ৩১ মার্চ প্রকল্পটি বাতিল করে সরকার। ফলে একযোগে চাকরি হারান এসব কর্মী।
চাকরি হারানোর পর থেকে সংশ্লিষ্ট দফতর ও মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেও কোনো সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। সমাধানের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে বর্তমানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এলএসপিরা।
বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের প্রধান সমন্বয়ক এস এম জামান বলেন, প্রকল্পে অর্থ অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করে দেওয়ায় হাজারো পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। এমনকি মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পাঠানো হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা থেকে আসা শরিফুল ইসলাম লিটন জানান, এর আগে অধিদফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তিনি বলেন, তাদের একটাই দাবি—স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞাপন
কুড়িগ্রাম থেকে আসা সুমন সরকার বলেন, এই চাকরির ওপরই তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন কাজ করানোর পর এখন তাদের সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এম/এএইচ




