আইনের ফাঁকফোঁকরে জামিনে মুক্তি পেয়ে মাদক কারবারিরা বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন করে তাদের সহজে জামিন পাওয়া বন্ধ করতে হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
সংসদে বক্তব্যের শুরুতে স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত তার নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা একটি অবহেলিত ও কৃষিনির্ভর অঞ্চল, যেখানে ভারী শিল্প-কারখানার অভাব রয়েছে। ফলে এলাকার অর্থনীতি পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
মাদক সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকায় সংঘটিত চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির বড় অংশই মাদক সংশ্লিষ্ট। কিন্তু মাদক কারবারিরা দ্রুত জামিন পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরে মনজুরুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জের ৫০ শয্যা ও কাহারোলের ৩০ শয্যার হাসপাতাল দুটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট। এসব হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বীরগঞ্জ হাসপাতালকে ১৫০ শয্যা এবং কাহারোল হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া কাহারোল উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এলাকার একটি বড় গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজট সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বীরগঞ্জের সিংড়া শালবন দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে এবং এর জমি বেদখলের শিকার হচ্ছে। তিনি এই বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং এটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে তিনি তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
টিএই/এএস




