চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি বিমানে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চান।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।
হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। যাতে আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।
এ সময় আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ কমানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরও খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি আপনারা দোয়া করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এরআগে রাত রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে তিনি ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন। সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করবে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট থাকবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।
আগামী ২১ মে হজ পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, এটি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
এমএইচআর




