দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ইন্টারনেট ব্যবহারে এখনো বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৭২.৭ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন থাকলেও এখনো প্রায় অর্ধেক মানুষ ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মুঠোফোন রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় সব পরিবারই মোবাইল প্রযুক্তির আওতায় এসেছে। তবে স্মার্টফোনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম- ৭২.৭ শতাংশ পরিবারে। এর ফলে ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিবিএসের তথ্যমতে, পরিবারভিত্তিক হিসেবে ৫৫.৯ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে একটি পরিবারে একজন ব্যবহারকারী থাকলেই পুরো পরিবারকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ধরা হয়। ফলে বাস্তবে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার আরও কম। এই হিসাবে দেশজুড়ে এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোবাইল ব্যবহারে পুরুষের তুলনায় নারীরা কিছুটা পিছিয়ে। পুরুষদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহার করলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৬.৮ শতাংশ। তবে মালিকানার ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও বেশি- ৭০ শতাংশ পুরুষের নিজস্ব মোবাইল থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫৮.৯ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। পুরুষদের মধ্যে ৫০.১ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, যেখানে নারীদের মধ্যে এই হার ৪০.৬ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে-পুরুষদের মধ্যে ৫৬.৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও নারীদের মধ্যে তা প্রায় ৫০.২ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫৯.৬ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন রয়েছে, রেডিও ব্যবহার করে ১৫.৩ শতাংশ পরিবার এবং কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ পরিবারে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় সর্বজনীন- ৯৮.৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুতের আওতায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের বিস্তার ডিজিটাল অগ্রগতির বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো না গেলে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
এএইচ/এমআই




