মোবাইল হারানোর একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত করতে গিয়ে ভয়াবহ এক অপরাধীর খোঁজ পেয়েছে পুলিশ, যিনি ভুয়া পরিচয় ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়জিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারি বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম রাশেদুল ইসলাম রাব্বি। যাত্রাবাড়ীর ধনিয়া কলেজের পাশের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মল্লিক আহসান বলেন, গ্রেফতার রাব্বি প্রথমে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খোলে। এরপর মেয়ে কণ্ঠ নকল করে এক নারী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কৌশলে তার মোবাইল ফোন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ওই ফোনে থাকা সিম ও সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল ও কলেজপড়ুয়া একাধিক ছাত্রীকে টার্গেট করে।
ওয়ারি বিভাগের ডিসি বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নারী কণ্ঠে কথা বলে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর উপহার আদান-প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচ তলায় নিয়ে যেত। সেখানে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করতো।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেওয়া হতো। ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা পর্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করার হুমকি দিয়ে তাদের পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও নিয়মিত অর্থ আদায়ে বাধ্য করত বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
মল্লিক আহসান উদ্দিন আরও বলেন, গত ২০ মার্চ দুপুরে এক মেয়েকে ফ্যামিলি মিট-আপের কথা বলে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নেয় রাব্বি। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ডার্ক পর্ন সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে।
এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথম ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বন্ধু তালিকায় থাকা অন্য একজনকে টার্গেট করে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) পোশাক ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয় ভুক্তভোগীকে যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং তার মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুটে নেয়।
ডিসি আরও বলেন, ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরেক ভুক্তভোগীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে শনাক্ত করে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় দনিয়া কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একেএস/এমআর




