মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

উৎসবের ঢেউ রমনায়, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

উৎসবের ঢেউ রমনায়, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ
বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় করে মানুষ। ছবি: ঢাকা মেইল।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা পার্কে ভিড় জমেছে মানুষের। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর থেকেই নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে মানুষের ঢলে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো রমনা পার্ক।

যাত্রাবাড়ী থেকে স্ত্রী ও দুই বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে রমনায় আসা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত বছরের অন্য দিনগুলোতে এভাবে ঘোরা হয় না। যেহেতু আজ বিশেষ দিন। রমনার বটমূল দেখার জন্য অনেকদিন ধরে প্লান করছিলাম। আজ পরিবার নিয়ে চলে আসলাম। ভালোই লাগছে এখানে ঘুরেফিরে।’


বিজ্ঞাপন


আসাদুলের স্ত্রী মোনালিসা জানান, তিনি ঢাকার বাইরে বড় হয়েছেন। রমনা বটমূলের কথা অনেক শুনেছেন। কিন্তু আসার সুযোগ হয়নি। আজ স্বামীর সঙ্গে প্রথম এলেন রমনার বটমূলে।

ramna-1শুধু আসাদুল-মোনালিসা দম্পতি নন, তাদের মতো শত শত দম্পতি, তরুণ-তরুণী ও পরিবার রমনায় ভিড় করেছেন। তাদের অনেকে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত হন। বৈশাখের গান শোনার জন্যও অনেকেই জড়ো হন বটমূলে।

মিরপুর থেকে এসেছেন পল্লব এবং সুমাইয়া দম্পতি। পল্লব জানান, ঢাকা কলেজে পড়ায় রমনায় অনেকবার এসেছেন। কিন্তু পহেলা বৈশাখে কখনো আসেননি। এবারই বৈশাখের প্রথম দিন এসেছেন।

পল্লব বলেন, ‘আজ ভিন্ন এক রূপ দেখলাম। পুরো এলাকা যেন উৎসবের সাজে সাজানো।’


বিজ্ঞাপন


রমনা উদ্যানে প্রবেশ মুখ শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পূর্ব দিক এবং মৎস্যভবন এলাকা যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ফলে এবার নির্বিঘ্নে শাহবাগ থেকে লোকজন রমনায় আসতে পারছেন। পুরো রাস্তা যেনো একটি বৈশাখী মেলা।

ramna-2সাতসকালে নিউ ইস্কাটন থেকে রমনায় আসেন তিন বান্ধবী হিমা, লাবনী, এবং পড়শী। তারা পুরো রমনা ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন।

লাবনী বলেন, ‘এমন দিন বছরে একবার আসে। কলেজ থাকায় অন্য দিনগুলোতে আসতে পারি না। আজ তিন বান্ধবী এসেছি৷ ভালোই লাগছে।’ 

হিমা বলেন, ‘প্রতি বছর কম-বেশি রমনায় আসি। কিন্তু এবার এসে কেন জানি খুব ভালো লাগছে। এখনো লোকজনের ভিড় বাড়েনি। এ কারণে আমরা এভাবে ছবি তুলতে পারছি। ঘুরতে পারছি।’

দর্শনার্থীরা জানান, এবারের আয়োজন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার। র‍্যাবের সদস্যরা ওয়াচ টাওয়ার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।

ramna-3রাফিন এসেছেন পুরান ঢাকা থেকে। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটিতে রমনায় এসে খুব ভালো লাগছে। এমন সবুজ পার্ক তো ঢাকায় কম। বিশেষ করে পুরান ঢাকায়। ফলে বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসলাম।’

সকাল ১১টার দিকে ডিএমপির সদস্যদের ঘোড়ায় টহল দিতে দেখা যায়। পরে ঘোড়াগুলো পুলিশের কন্ট্রোল রুমের পাশে রাখা হলে তা ঘিরে ভিড় জমে।

অনেকেই জানান, টেলিভিশন ও পত্রিকায় রমনার বৈশাখী আয়োজন দেখে অভ্যস্ত ছিলেন। এবার সরাসরি এসে সেই ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে তারা আনন্দিত।

এমআইকে/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর