রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকার যানজট কমাতে ১১ প্রস্তাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Jam

ঢাকার ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ‘ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। 

রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি ইছহাক দুলাল।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২৩ থেকে ২৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে, যার বড় অংশই শহরাঞ্চলে বসবাস করবে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

তিনি জানান, ২০০৭-২০০৮ সালে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার, যা বর্তমানে নেমে এসেছে ৪.৫ থেকে ৭ কিলোমিটারে। এক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার যাত্রীদের প্রতি দুই ঘণ্টায় গড়ে ৪৬ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা বছরে প্রায় ২৭৬ ঘণ্টার সমান। এই দীর্ঘ সময় অপচয়ের ফলে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সংগঠনটি জানায়, তারা পূর্বে ২০১০ ও ২০২৪ সালেও এ বিষয়ে গবেষণা করে প্রস্তাবনা দিয়েছিল। এর কিছু বাস্তবায়নাধীন থাকলেও বাকি প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

যানজট নিরসন কমিটির ১১টি প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে—


বিজ্ঞাপন


১. খাল সংস্কার: ঢাকা শহরের চারদিকে যে খাল আছে সেগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস, ছোট ছোট লঞ্চ চালু করা।

২. ট্রাম রোড: ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা।

৩. রিং রোড: মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা।

৪. বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে স্থানান্তর করা, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড বর্তমানে পরিচিত কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা। গাবতলী বাসস্ট্যান্ড গাবতলীতে থাকবে।

৫. কমলাপুর থেকে বাইপাস বেসলাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা: কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট নিরসনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।

৬. জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব: ঢাকা শহরকে দুটি জোনে ভাগ করে- জোন এক, কেরানীগঞ্জ জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থাপন করা। জোন দুই, কাশিমপুর জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থাপন করা।

৭. ঢাকার চারদিকে ১০০ কিমি ট্রেন চালু করা: ঢাকা শহর থেকে যানজট ও মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঢাকার নিকটবর্তী জেলা শহরগুলোর সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা।

৮. ফুটপাত দখল মুক্ত করার প্রস্তাব: ফুটপাত দখল মুক্ত করে হকার পুনর্বাসন করা। ফুটপাত জনগণের সম্পদ। হকারদের ফুটপাতে না বসিয়ে হলিডে মার্কেট চালু করা। ফুটপাতে জনগণ চলাফেরা করবে। ঢাকাকে সাতটি জোনে ভাগ করে যেদিন যে এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে সেদিন সে স্থানে হলিডে মার্কেট ওই এলাকার উন্মুক্ত স্থানে করার ব্যবস্থা করা।

৯. ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো: ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যান্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং কনস্টেবলদের এসআই এই ট্রেনিং করাবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া। গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। রাস্তায় কে কোন লাইনে গাড়ি চালাবে এই বিষয়ে সচেতন করা।

১০. নগর পরিবহন চালু করা: ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন চালু করা। এক, নন এসি গাড়ি, দুই, এসি গাড়ি। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না, এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগে উন্নতি হবে।

১১. জাতীয় স্বার্থে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা: গ্যাসকে সংযোজন করে উৎপাদন বাড়বে এবং সিএনজি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে যেন গ্যাস না দেওয়া হয়। গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে যেসব রফতানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে সেসব ফ্যাক্টরিগুলোতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাবে। দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর