জমে উঠেছে ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ফেয়ার। এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান টিকিটে বিশেষ ছাড়, ট্যুর প্যাকেজ, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং এবং মেডিকেল ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন সেবার ওপর আকর্ষণীয় অফার দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার আয়োজন করেছে পাক্ষিক পর্যটন বিচিত্রা ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’। মেলার সহযোগিতায় রয়েছে এয়ার অ্যাস্ট্রা ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এয়ারএস্ট্রা, ছুটি গ্রুপ, গোল্ডস্যান্ড গ্রুপ, এএমডিএ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ভিক্টোরি ট্যুর, কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল, কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, এয়ারপিডিয়া, থাইল্যান্ডের মেডপার্ক হাসপাতাল, এয়ার চায়না, থাইল্যান্ডের ভিজথাই ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল, কক্সবাজারের রয়েল পার্ল সুইটস হোটেল, সৌদি আরবের মদিনার কারাম আল হেজাজ হোটেল, থাইল্যান্ডের শুরা হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। সেইসঙ্গে তারা নানা অফার চালু করেছেন।

রাজধানীর আজিমপুর থেকে মেলা দেখতে এসেছেন শিক্ষক মিজানুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন দেশ ঘুরি। আর এই মেলাতে ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু বিষয় রয়েছে। বিমানের যাতায়াত এবং হোটেল ভাড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পেরেছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ট্যুর করতে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরো বলেন, মেলাটি দেখে সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল মনে হয়েছে। এমন মেলা প্রতিবছর হওয়া উচিত। এতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সফর করতে সুবিধা হবে।
মেলায় পরিবারসহ দেখতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম। তিনি মেলায় পরিবারকে স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছেন।
জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ঢাকা ট্রাভেল মার্ট আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমি আগে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে দেখেছি। কিন্তু এখানে সরাসরি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের স্টলগুলো আমাকে বেশি আকর্ষণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে মানুষের মধ্যে ভ্রমণের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এমন আয়োজন শুধু পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেয় না, বরং সাধারণ মানুষকেও নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কারে উৎসাহিত করে। আশা করি, ভবিষ্যতে এই মেলা আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে এবং আরো বেশি আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ থাকবে।
তার মতে, ঢাকা ট্রাভেল মার্ট শুধু একটি মেলা নয়, এটি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার জায়গা।

এয়ার চায়নার স্টলে থাকা মাসুদুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, মেলায় আমরা আন্তর্জাতিক ট্যুরে অফার দিচ্ছি। চীনের বিভিন্ন প্রদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীরা বেশ ভালোই সাড়া দিচ্ছেন। আশা করছি, যারাই সেবা নিবেন, তারা উপকৃত হবেন।
কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস স্টলের রাশেদ হাসান বলেন, মেলায় বিভিন্ন অফার দেওয়া হচ্ছে। এই অফার শুধু মেলায় থাকবে। এক দিন, তিন দিনসহ কয়েকটি অফার রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিরাপদ ও চিন্তাহীনভাবে আমাদের এখানে যেকেউ থাকতে পারবে। সেইসঙ্গে ভালো পরিবেশ ও সুন্দর ভ্রমণের জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই।
এদিকে মেলা আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ভ্রমণ, বিমান চলাচল ও আতিথেয়তা খাতের বিভিন্ন সেবা তুলে ধরতে নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, চীন ও আয়োজক দেশ বাংলাদেশ থেকে ৫০টিরও বেশি সংস্থা অংশ নিয়েছে। মেলায় ১০টি প্যাভিলিয়ন ও ৮০টিরও বেশি বুথে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের হলিডে প্যাকেজগুলো নতুনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছি। মালদ্বীপ, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও কলকাতাসহ জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে পুনরায় কাস্টমাইজড প্যাকেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিদ্যমান প্যাকেজগুলোকেও আরো সহজলভ্য করা হচ্ছে।
ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ পরবর্তী ছুটি বা গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য এই অফারটি একটি সেরা সুযোগ। তবে বিশেষ এই ছাড় শুধুমাত্র মেলা চলাকালীন ১ নম্বর প্যাভিলিয়নের স্টল থেকে টিকিট কিনলেই পাওয়া যাবে।
এসএইচ/এফএ




