বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রফতানির নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

T

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের খাত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি’র সৌজন্য সাক্ষাতে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


বিজ্ঞাপন


বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরপরই স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদ্যমান সিঙ্গাপুর ওভারসিজ টেস্টিং সেন্টারের (ওটিসি) সংখ্যা বর্তমানে ছয়টি থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০টিতে উন্নীত করার জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি প্রচলিত সেক্টরের বাইরে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নার্সিং, কেয়ারগিভিং, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং হোটেল ব্যবস্থাপনা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।

20

এ সময় এসব খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে মন্ত্রণালয়ের অধীন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো (টিটিসি) ব্যবহারের প্রস্তাব দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসল)–কে একমাত্র ‘সেন্ডিং অর্গানাইজেশন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।


বিজ্ঞাপন


বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দেশের ছয়টি ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ থেকে ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন বন্দরে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ‘স্যান্ডবক্স’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা বৃদ্ধির বিষয়েও অনুরোধ জানানো হয়।

জবাবে চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে চাঙ্গি বিমানবন্দর, সান্তোসা দ্বীপ এবং পায়া লেবার এয়ারবেসে চলমান ও সম্ভাব্য নতুন প্রকল্পে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানান। তিনি ঢাকা–সিঙ্গাপুর রুটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বর্তমান সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট দ্বিগুণ করার আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে এ ক্ষেত্রে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সিঙ্গাপুরের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিনিয়োগে আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব ধানিয়া লিঙ্গেস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শাহীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এমআর/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর