বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘দেশ গভীর সংকটে, উত্তরণে রাজনৈতিক বিভাজন নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

M

দেশ বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বদিউল আলম মজুমদার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং সর্বস্তরের জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। 

তার মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি—বাংলাদেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার মোকাবিলা সম্মিলিতভাবে করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় তিনি বলেন, একদিকে আন্তর্জাতিক সংকট দেশের ওপর চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণভাবে গণভোটের রায় প্রশ্নবিদ্ধ করা কিংবা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নতুন সংকট তৈরি করছে। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এসব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল—তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আপত্তি তোলাকে তিনি খোঁড়া যুক্তি বলে উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৯০ সালে শাহাবুদ্দিন আহমেদ–এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যা তখন রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বাস্তবায়িত হয়েছিল।

নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত সংখ্যালঘু মতামত। সংসদীয় কমিটি বা ঐকমত্য কমিশনের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং সেটিই গণভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এ ধরনের যুক্তি সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্যের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা পতনের পথ তৈরি হয়েছিল, সেই ঐক্য এখন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অহেতুক বিভাজন দেশের অর্জনকে নষ্ট করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। অন্যথায় এর ভয়াবহ পরিণতি জনগণসহ ক্ষমতাসীনদেরও বহন করতে হবে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক সময় আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে এখনই সঠিক পথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

এমআর/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর